বুধবার,২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৬:৪১
বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসতে অনেকেই আগ্রহী লালমনিরহাটে ইসলামী আন্দোলনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ লালমনিরহাটে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলে র‌্যালী ও দোয়া মাহফিল ১০ বছরের পরিবর্তন অব্যাহত রাখাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা পার্বতীপুরে ছাত্রলীগের কর্মসূচি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

পাহাড়ে চলছে জুমের ফসল ঘরে তোলার উৎসব

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  পাহাড় আর লেকে ঘেরা রাঙামাটিতে চলছে জুমের পাকা ধান কাটার উৎসব। পাহাড়ের প্রতিটি কোনে কোনে ফুটেছে সোনালী ফসলে জুমের হাসি। এখন চলছে ফসল ঘরে তোলার কাজ। জুমের ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে পাহাড়ের জুমিয়া পরিবারগুলোর।

প্রতিবছরই এমন সময় ভোর সকালেই কাধে ‘হাল্লোং’ (চাকমা ভাষায়) নিয়ে জুমক্ষেতের দিকে ছুটে চলেন পাহাড়ি কৃষাণ-কৃষাণীরা। সারাদিন ফসল কেটে এই ‘হাল্লোং’এ ভর্তি করে কাধে নিয়ে বেলা শেষে বাড়ি ফেরেন তারা। সবে মাত্র পাহাড়ে জুমের ফসল ঘরে তোলা শুরু হওয়ায় চারদিকে লেগেছে জুমের ধান কাটার ধুম। একই সঙ্গে ধুম পড়েছে মারফা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়স, কাকরোল, কুমড়াসহ বিভিন্ন জুমের ফসল ঘরে তোলার কাজে।

আর এ বছর পাহাড়ে জুমের মোটামুটি ভালো ফলন হওয়ায় উচ্ছাস দেখা দিয়েছে জুমিয়া পরিবারগুলোর মাঝে, জানা গেছে পাহাড়ে জঙ্গল কেটে তা পুড়িয়ে একসাথে বহু ফসল চাষকেই বলে হয় জুম চাষ। জুম চাষ হচ্ছে ঢালু পাহাড়গুলোতে বিশেষ পদ্ধতির চাষাবাদ। এটি এই অঞ্চলের পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী প্রথা। সারা বছরে তাদের খাদ্য সংস্থান এই জুম চাষের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

যে বছর জুমের ভালো ফলন হয় না তখন অনেকেরই খাদ্য সংকটে ভুগতে হয়। বাংলাদেশের শুধুমাত্র তিন পার্বত্যাঞ্চলেই পাহাড়ের ঢালে বিশেষ পদ্ধতির এই জুম চাষ করা হয়ে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, পৌষ-মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালের জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে তা আগুনে পুড়িয়ে তারপর জুম চাষের উপযোগী করে তোলা হয়। এরপর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পোড়া জুমের মাটিতে সুঁচালো দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে ধান, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, তুলা, কাঁচামরিচ, তিল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রকম বীজবপন করা হয়। আর এসব জুমের ধান আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই পেকে থাকে। তারপর থেকে শুরু হয় এক এক করে জুমের ফসল ঘরে তোলার কাজ।

রাঙ্গামাটি সদরের বালুখালি এলাকার জুম চাষি সুরতি চাকমা বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই আমরা ঐতিহ্যবাহী এ জুম চাষ করে থাকি। আমার নিজে জায়গা নেই তাই অন্যের জায়গায় বর্গা নিয়ে এই চাষ করে থাকি। আমাদের আদি পুরুষ থেকে এই চাষ পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়, আর তখন থেকে আমরা বংশ পরমপরাই এই চাষ করে আসছি। এই ফসল দিয়েই আমাদের সারা বছর চালাতে হয়। জুম থেকে প্রাপ্ত ধান দিয়ে আমাদের সারাবছরের ভাতের চাহিদা মেটে যায়। আর অন্য ফসলের কিছু অংশ বিক্রি করে তরকারি সহ অন্যন্য চাহিদা মেটাই। এই বছর জুমের ফসল ভালো হয়েছে।

আরেক জুমিয়া কৃষ্ণ বরণ চাকমা বলেন, ‘জুম খেতে বীজ বপনের কয়েকমাস রক্ষণাবেক্ষণ করার পর ফসল তোলা যায়। গত বছরের মতো এ বছরও সময়োমত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফসল ভালো হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, ‘রাঙ্গামাটিতে প্রায় ১২ জাতের জুমে ধান চাষ করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে উলেখ্যযোগ্য হলো রাঙ্গি, কবরক, কামারং, বিনি, আমিং, তুরকি, ছড়ই, সুরি, মধুমালতি ও সোনাই চিকন। এখন জুম চাষের পাহাড়গুলোতে জুমের ধান কাটা তোলার উৎসব শুরু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাহাড়ে মোট ৬৪ মেট্রিক ০৭৬ মেট্রিকটন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এ বছর জুমের আরো ভালো ফলন আশা করছি।সূত্র: পূর্বপশ্চিম

আপনার মতামত লিখুন

চট্রগ্রাম,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ