রবিবার,২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং,৫ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৪:২৯

ঈদের আগেই চালু হবে পার্বতীপুর-দিনাজপুর রেলপথ বন্যায় ২৭ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭ লাখ মানুষ, ৯৩ জনের প্রাণহানি পার্বতীপুরে ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস্ অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ” উপজেলা শাখার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দিনাজপুরে আসছেন চিরিরবন্দরে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত সিংড়া ও নলডাঙ্গায় বন্যা পরস্থিতি আরো অবনতি নাটোরের সিংড়ায় বন্যার্তদের পাশে শিল্প ও বণিক সমিতি

পার্বতীপুর শহর থেকে বিচ্ছিন্ন ৫০ গ্রামের মানুষ বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তিলাই নদীর ব্রীজ

পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি
পার্বতীপুরে নদী পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ। সময় মতো নতুন ব্রীজ নির্মান কাজে হাত দেওয়া তো দূরের কথা পুরাতন ব্রীজ ভাঙ্গার কাজেই শেষ করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ঠিকাদারের এহনো কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারন মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে দ্রুত ব্রীজ নির্মানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। এখন ভরা বর্ষা মৌসুমে এসে পার্বতীপুর শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ৫০ গ্রামের মানুষ। বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে শতশত ছাত্র-ছাত্রীর। অনেককে ঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় চড়ে নদীপার হতে হচ্ছেন। একান্ত প্রয়োজনে ১০ কিলোমিটার ঘুরে শহরে আসতে হচ্ছে তাদের। দুই ঠিকাদারের সমন্বয়হীনতার কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বলছেন, পৌর কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে পুরাতন ব্রীজ অপসারন কাজ শেষ না করায় তার প্রস্ততি থাকা সত্ত্বেও ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু করতে পারেননি।
জানাযায়, পার্বতীপুর শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া তিলাই নদীর ওপর একটি ঝুকি পূর্ন ব্রীজ ছিল। ওই ব্রীজের উপর দিয়ে প্রতিদিন চলতো শতশত যানবাহন। চন্ডিপুর ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা ওই ব্রীজ। পুরাতন ব্রীজটি ভেঙ্গে ওই স্থানে নতুন ব্রীজ নির্মানের দরপত্র আহবান করে এলজিইডি। ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ব্রীজটি নির্মানের কাজ পান সালেক ইন্টারপ্রাইজ। অপর দিকে পুরাতন ব্রীজটি ভেঙ্গে ফেলতে পার্বতীপুর পৌরসভা নিলাম ডাকে। ব্রীজ ভাঙ্গার কাজ পান পার্বতীপুরের ঠিকাদার আনোয়ারুল হক। তিনি সময়মত পুরাতন ব্রীজ অপসারনের কাজ শেষ করতে পারেননি।
জাহানাবাদ গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ওই ব্রীজ দিয়ে ৫০ গ্রামের মানুষ শহরে প্রবেশ করে। শতশত ছাত্র-ছাত্রী শহরের স্কুল গুলোতে আসে। ব্রীজ ভাঙ্গার পর পাশে মাটি দিয়ে একটি সড়ক নির্মান করে দেওয়া হয়। অল্প দিনে ওই সড়ক ভেঙ্গে গেলে সামান্য উচ্চতায় একটি বাঁশের সাঁকো নির্মান করে দেওয়া হয়। বর্ষাকালে ওই সাঁকোটি সহজেই ডুবে যায়। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাধারন মানুষ। শিক্ষার্থীদের স্কুল যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকাবাসী নদীপারাপারে ড্রাম দিয়ে একটা ভেলা তৈরী করেছে। কিন্তু ঝুকি নিয়ে কেউ তাতে উঠতে চাচ্ছে না।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সালেক ইন্টারপ্রাইজের সত্তাধিকারী সালেক হোসেন জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়জিত ঠিকাদার সময়মত পুরাতন ব্রীজ ভেঙ্গে অপসারন করতে না পারায় তিনি সময় মতো ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু করতে পারেননি। বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছিলেন। বর্ষাকালে তা তলিয়ে গেছে। এখন তার করার কিছুই নেই। পার্বতীপুর পৌর মেয়র এজেডএম মেনহাজুল হক বলেন, ব্রীজ ভাঙ্গার কাজ দেরীতে শুরু হওয়ায় বর্ষা চলে এসেছে। নদীর পানি না কমলে ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী রায়হানুল ইসলাম বলেন, জনগনের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন সময়মত ব্রীজ ভাঙ্গার কাজ শেষ হলে এতো দিন নতুন ব্রীজ নির্মান কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসতো। গত ডিসেম্বর মাসে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে ঠিকাদার। জটিলতার কারনে তারা কাজ শেষ করতে পারেননি। বর্ষা শেষে ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ