শুক্রবার,১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং,৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:৫১
চলচ্চিত্রেও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল বাচ্চুর গান বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যবদ্ধভাবে চলবে -শ্রীপুরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সাগর পাড়ে উদ্ধোধন হলো স্কুল কাম সাইকোন সেল্টার ডোমারে ৫ জিএমবি সদস্য আটক। “এক হাতেই শিক্ষা ও সংসার সামলাচ্ছেন ফেরদাউস” বোচাগঞ্জে শেখ রাসেল ৫৪তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন ফুলবাড়ী বিজিবি কর্তৃক সীমান্তে চোরাচালান অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার মাদক আটক ॥

পার্বতীপুরে ১১ গ্রামে পানি সংকট চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব

parbatipur-dinajpur-photo-sani-16-10-16
সোহেল সানী :
স্থানীয় রজনীগন্ধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রিভা (৮) প্রায় ২ মাস ধরে দু’হাতে চর্মরোগে আক্রান্ত। রোগ সারাতে ইতিমধ্যেই ৫-৬শ’ টাকা খরচ করেছেন তার বাবা। এখন পর্যন্ত সে সুস্থ হতে পারেনি। তার বাবা ইদ্রিস আলী (৩৫) জানান, বাড়ীর নলকুপে পানি না উঠায় রিভা তার কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ডোবায় হাত-পা ধুতে যেত। আর সেখান থেকেই তার হাতে এ রোগের সংক্রমন ঘটেছে। রিভা ও তার পরিবার পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ইউসুবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
শুধু রিভাই নয়, ওই এলাকার আরো অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ওই এলাকার কৃষক, যারা েেত কাজ করে তাদের সবাই এই রোগের শিকার। তবে চর্মরোগ ওই এলাকার মূল সমস্যা নয়। মূল সমস্যা পানি সঙ্কট। রিভা যে গ্রামে বাস করে সেই ইউসুবপুর গ্রামটি বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাত্র ৩শ’ থেকে ৪শ’ মিটারের মধ্যে।
স্থানীয়দের মতে, ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র শুরু থেকে সচল রাখতে কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী ইউসুফপুর ও দুধিপুকুর গ্রামে ১৪টি গভীর পাম্প স্থাপন করা হয়।
২০০৬ সাল থেকে গভীর নলকুপ গুলো হতে অনবরত পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। যাতে করে ওই এলাকার নলকূপ দিয়ে পানি উঠছে না। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার পড়েছে ওই এলাকায়।
পানির এ তীব্র সঙ্কট শুধু ইউসুফপুর গ্রামেই নয়, কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলার মোট ১১টি গ্রামে দেখা দিয়েছে পানির জন্য হাহাকার। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হচ্ছে- পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের শেরপুর, উত্তর শেরপুর ও মধ্যমপাড়া গ্রাম এবং ফুলবাড়ীর শিবনগর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর, মধ্যরামভদ্রপুর, মধ্যদুর্গাপুর ইউসুবপুরের ২টি ও দুধিপুুকুরের ৩টি গ্রাম।
অনুসদ্ধানে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। পাশাপাশি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে পানি ব্যবহার করা হয় সেসব ময়লাযুক্ত ও দূষিত পানি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য হিসেবে ড্রেনের মাধ্যমে চলে আসে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি ও তিলাই নদীতে। আর এসব পানি শরীরের সংস্পর্শে আসা মাত্র দেখা দিচ্ছে চুলকানিসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সুত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে পানির সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করলে এলাকাবাসী বিশুদ্ধ পানির দাবীতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) বগুড়ার সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে গভীর নলকূপ বসিয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ শুরু করে।

গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন ইউসুবপুর গ্রামে গেলে কথা হয়- দুধিপুকুর দাখিল মাদ্রসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোসলেম উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তাদের গ্রামে পানির সঙ্কট চলছে। অনেকেই এসেছেন, তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সর্বশেষ সমাধান হিসেবে যা হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট নন তারা। কারণ এখন তাদের পানি কিনে খেতে হয়।

ইউসুবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর স্ত্রী মুক্তা ইয়াছমিন (২৮) জানান, আগে কখনও এমন ছিল না। গত প্রায় ৭-৮ বছর ধরে তাদের এ সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এখন জনপ্রতি পানির জন্য প্রতি মাসে ১২ টাকা হারে পানির বিল দিতে হয়। তারপরও চাহিদামত পানি পাওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ীর পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তা সত্বেও এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎ লোডশেডিং। আর এ কারনে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে।

পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নবিউর রহমান জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রর পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে দূষিত পানির কারণে চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চর্মরোগ প্রতিরোধে তৎপর রয়েছেন।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (আইএন্ডসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের অর্থায়নে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে কয়লা ধোয়া যে পানি বের হয়, তাতে পরিবেশগত কোন সমস্যা সৃষ্টির সম্ভবনা নেই। বরং এই পানি যে জমিতে পড়ে তার ফসল উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। তিনি জানান, এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে স্থানীয় অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারনে সমাধানযোগ্য কিছু সংকট তৈরী হলেও এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ সারাদেশের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে।

Edit by- Melonparvez

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ