শনিবার,১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:০৭
হাবিবুলকে ছাড়িয়ে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ড মাশরাফির সেনাবাহিনী মাঠে নামবে ২৪ ডিসেম্বর পার্বতীপুর মুক্ত দিবস ১৫ ডিসেম্বর পার্বতীপুরে আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম বৃত্তি প্রকল্পের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

পার্বতীপুরে বোরো চাষে ‘লোগো পদ্ধতিতে’ আগ্রহী কৃষক

পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি
বোরো ধান চাষে লোগো পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পার্বতীপুরের কৃষকদের কাছে। গত বছর এই পদ্ধতিতে ধান চাষ লাভ জনক হওয়ায় এই পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছে অনেক কৃষক। উপজেলার কৃষি মাঠ ঘুরে এ দৃশ্য চোখে পড়ছে। শ্রমিক খরচ একটু বেশি হলেও ধনের ফলন বৃদ্ধি ও রোগ বালাই কম হওয়ার কথা বলছেন কৃষকরা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করে বোরো চাষ করলে আলো-বাতাস সহজেই প্রবেশ করতে পারে ধান ক্ষেতে। রোগ বালাই অনেক কম হয়। আগাছা পরিষ্কার ও সার প্রয়োগের সুবিধা হয় কৃষকদের। ঘাস ফড়িং ও মাজরা পোকা থাকে না। ফলন বৃদ্ধি পায় একরে ৭ থেকে ৮মন ধান। এতে একরে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার ধান ঘরে তোলা যায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে পার্বতীপুর উপজেলায় এবার ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতি মধ্যে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো লাগানো হয়েছে। লোগো পদ্ধতির আওতায় এসেছে ১৩ হাজার হেক্টর জমি।
মন্মথপুর ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি এবার ৩ একর জমিতে লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। গত বছর একর জমি লোগো পদ্ধতিতে চাষ করে ৭ মন ধান বেশি পেয়েছেন। পোকা মাকড়ের আক্রমন কম হয়েছিল লোগো পদ্ধতিতে চাষ করা জমিতে। এ কারনে তিনি এবার তার সব টুকু জমি লোগো পদ্ধতিতে ধান লাগিয়েছেন। মুন্সীপাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন লোগো পদ্ধতির ফলে জমিতে সার প্রয়োগ ও নিড়ানী দেওয়া সুবিধা হয়।
মন্মথপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তার ইউনিয়নে এ বছর ৪শ হেক্টর জমি লোগো পদ্ধতিতে ধান চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন লোগো পদ্ধতিতে উত্তর-দক্ষিনে সারি করে ধান লাগানো হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব হয় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি। এ ভাবে ১০-১৫ সারি পর একটি সারি ফাঁকা রাখা হয়। ওই ফাঁকা লাইন দিয়ে সহজেই আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে ধান ক্ষেতে। এতে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম হয়। আগাছা পরিষ্কার করে ওই ফাঁকা লাইনের কাদার নিচে পুতে রাখলে তা জৈব সারে পরিনত হয়। উৎপাদন বাড়ে একরে ৭ থেকে ৮মন। হেক্টরে ১৫ থেকে ২০ মন। ফাঁকা অংশ দিয়ে কৃষকরা সহজে হাঁটতে পারায় ক্ষেতের পরিচর্যা নিবিড় ভাবে করা যায়।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবীর বলেন, লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষি জমিতে আলো বাতাস প্রবেশের কারণে পোকার আক্রমণ থাকেনা। ফলন একরে ৭- ৮ মন ধান বেশি পাওয়া যায়। এ বছর ২৫ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি লোগো পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছে কৃষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ