শুক্রবার,২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:৫২

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার সাড়ে ১৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বাগাতিপাড়ার দরিদ্র মেধাবী সজনীকে ল্যাপটপ দিলেন ইউএনও পাঁচবিবিতে নগত অর্থ বিতরণ সৈয়দপুরে সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে খুচরা পয়সা সংগঠন ইটভাটার কালোধোঁয়ায় ফসলের তিপূরণের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন লালমনিরহাটে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার বায়তুল মুকাররমে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সময়সূচি

পাকিস্তানের কাছে হারের পর ভারতীয় ক্রিকেটে দ্বন্দ্ব চরমে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: সদ্য সমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হওয়ার আগেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ভিরাট কোহলি ও কোচ অনিল কুম্বলের মধ্যে সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে বলে জানা যাচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজ রিপোর্ট করেছে, ফাইনালের ঠিক আগেই কোহলি ভারতের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি ও বোর্ড কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দে- কুম্বলের ব্যাপারে তার তীব্র আপত্তি আছে এবং তার সঙ্গে কাজ চালানো একেবারেই সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আদৌ কোচ কুম্বলেকে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে ভারতীয় বোর্ড এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে।

ঠিক এক বছর আগে অনিল কুম্বলেকে যখন ভারতের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত করা হয় – তারপর থেকে তার রেকর্ড প্রায় নিখুঁত বলা চলে। তার কোচিংয়ে চারটে হোম সিরিজ ভারত অনায়াসে জিতেছে, উঠেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।

কিন্তু এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ক্যাপ্টেন কোহলির সঙ্গে তার মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে , যদিও মুখে অন্তত কোহলি তা অস্বীকার করে গেছেন।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় ভারতীয় অধিনায়ক বলেন, ড্রেসিংরুমের ভেতরের খবর না জেনেই লোকে নানা উল্টোপাল্টা লেখে বা গুজব ছড়ায়। আমাদের ভেতরে সব ঠিকঠাক আছে, যারা গুজব ছড়াতে চায় তাদের ছড়াতে দিন।

কিন্তু আগাগোড়া এই টুর্নামেন্ট কভার করা সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য বলছিলেন, কুম্বলে সম্পর্কে ক্যাপ্টেন আসলে কী ধারণা পোষণ করছেন সেটা প্রেস কনফারেন্সগুলোতেও গোপন থাকেনি।

বিবিসি জানায়, গোটা টুর্নামেন্টে একবারও কুম্বলে মিডিয়ার সামনে আসেননি, ক্যাপ্টেনও জিজ্ঞেস না করা হলে কুম্বলের নাম উচ্চারণ করেননি। অন্য দুজন কোচের কথা বলেছেন, কিন্তু নেহাত সৌজন্যের খাতিরে কিংবা বিতর্ক থামানোর জন্যও তিনি হেড কোচের নাম নেননি!

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় কোহলির প্রেস কনফারেন্স শুনলে যে কেউ ভাবতো ভারতীয় দলের নেটে রঘু বলে যে ছেলেটি বল ছোঁড়ে, তার ভূমিকাও বোধহয় কুম্বলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার আগে কুম্বলে সম্পর্কে সেই ক্ষোভই তিনি উগরে দিয়েছেন ভারতের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির তিন সদস্য – সাচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি আর ভিভিএস লক্ষ্মণের কাছে। এরা তিনজনেই কুম্বলের সতীর্থ ক্রিকেটার এবং তাদের ভোট কিন্তু এখনও কুম্বলের দিকেই।

বিবিসির মতে, ক্রিকেট কমিটি মনে করছে কুম্বলেকে সরানো হবে কোন যুক্তিতে? শুধু ক্যাপ্টেনের পছন্দ নয় বলেই? আসলে ভারতীয় ক্রিকেটে ক্যাপ্টেনের ছড়ি ঘোরানোর এই প্রবণতার শুরু এম এস ধোনির সময় থেকেই- যখন তিনি ডানকান ফ্লেচারকে কোচ বানানোর জন্য জেদ ধরেছিলেন!

বিবিসির সাংবাদিকরা জানায়, ডানকান ফ্লেচার প্রায় দুবছর ভারতের কোচ ছিলেন, কোনোদিন মুখ খোলেননি। এই ধরনের প্রচারবিমুখ লোক ক্রিকেটারদেরও খুব পছন্দের হয়। শেন ওয়ার্ন একবার বলেছিলেন কোচ হলো সেই লোকটা যে রোজ টিম বাসে করে টিমের সঙ্গে মাঠে আসবে আর দিনের শেষে বাসে করে টিম হোটেলে ফিরে যাবে। ক্রিকেটাররা কোচকে আসলে এই পর্যায়ে দেখতেই ভালবাসে। আর অনিল কুম্বলে হলেন এই ডানকান ফ্লেচার বা জন রাইট ঘরানার ঠিক উল্টো ধাঁচের কোচ – সমস্যাটা সেখানেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ