সোমবার,১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৭:২০
কলাপাড়ায় সমাপনী পরীক্ষায় অনপুস্থিত ২৩৩ মির্জাপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উৎপাদনে পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম ‘নির্বাচন হলেও ১ জানুয়ারি নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা’ ১শ’৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের রেকর্ড জাবিতে তীব্র বাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা শুরু

পরিত্যক্ত জমিতে মাল্টা চাষ করে লাখ টাকা আয়

2 weeks ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  সাধারণত বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত জায়গাটি অনেকটা অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে। ফসল হয় না বলে সেগুলো কারোর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না। এমনই পরিত্যক্ত একটি জমিতে মাল্টা চাষ করে কৃষি বিভাগকে চমকে দিয়েছেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হালঘাট গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ, উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদসহ অনেকেই এখন তাঁর সাফল্যের প্রশংসা করছেন। সম্প্রতি খামারবাড়ি ঢাকা থেকে মাল্টা চাষের ওপর যে পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়েছে জকিগঞ্জের ইসমাইলের মাল্টা বাগানের ছবি।

ইসমাইল জানান, জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী মাঠ কর্মকর্তা বলাই বিশ্বাস প্রথম তাকে মাল্টা চাষের পরামর্শ দেন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৬০ শতক জমিতে তিনি মাল্টা চাষ শুরু করেন।

মাল্টাগাছের চারা, সার, কীটনাশক ও পরামর্শ সবই বিনা মূল্যে দেয় কৃষি বিভাগ। মাত্র দুই বছরের মাথায় আশাতীত আশানুরূপ ফলন পেয়ে যান ইসমাইল ও তাঁর পরিবার। এসব জমিতে যেখানে বছরে ২০ হাজার টাকার ধান পাওয়া যেত না সেখান থেকে এবার প্রায় দেড় লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন ইসমাইল।

প্রতিদিন তাঁর মাল্টা বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে লোকজন। কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের কৃষকরা নিয়মিত পরিদর্শন করেছেন ইসমাইলের বাগান।

জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন জানান, সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০০৩ সালে ‘বারি মাল্টা-১’ নামে মাল্টার যে উন্নত জাত উদ্ভাবন করে তা দেখতে সবুজ, খেতে সুস্বাদু ও রসালো। শুষ্ক মাঝারি উঁচু জমি যেখানে রোদ পড়ে সেখানেই মাল্টা চাষের জন্য উপযুক্ত।

সিলেট অঞ্চলে শষ্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় জকিগঞ্জ উপজেলায় ৬০ শতক জমির ১২টি এবং রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ৩০ শতকে ২০টি মাল্টা বাগান করা হয়েছে। তার বাগান থেকে এবার প্রায় ১২০০ কেজি মাল্টায় পাওয়া গেছে যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।

ইসমাইলের বাবা আসাব আলী জানান, জমিতে মাটি ভরাট ছাড়া তার নিজের খরচ হয়েছে মাত্র হাজার বিশেক টাকা। মাল্টা বাগানে ইসমাইলের সঙ্গে পরিচর্যার কাজ করেন তাঁর বাবা আসাব আলী, ভাই আলী হোসেন ও কাওছার আহমদ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ বলেন, উচ্চ ফলনশীল মাল্টা বাগানটি দেখে আমি অবিভূত। প্রতিটি গাছের ফসলের ভারে নুয়ে গেছে ডালগুলো। মিষ্টি জাতের এ মাল্টা যাঁরাই একবার মুখে নিয়েছেন তাঁরাই প্রশংসা করছেন। বিষমুক্ত, পুষ্টিকর, লাভজনক মাল্টা চাষের দৃষ্টান্ত ইসমাইল হোসেন। সিলেটের পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে অন্যদের কাছে অনুকরণীয় হতে পারেন তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, জকিগঞ্জের কৃষক ইসমাইল আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন জকিগঞ্জের মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী। নতুন একটি সম্ভাবনা তিনি উপস্থাপন করেছেন আমাদের সামনে। সঠিক পরামর্শ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, সদিচ্ছা আর আন্তরিকতায় সফলতা সম্ভব ইসমাইলই তার দৃষ্টান্ত।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ