মঙ্গলবার,১৬ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং,১লা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:৩৮
প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন আগামীকাল ১ নভেম্বর থেকে জেএসসি পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন শ্রমিক’ থেকে ‘গণমাধ্যমকর্মী’ হলেন সাংবাদিকরা ৩০ জনকে নিয়োগ দেবে রানার গ্রুপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত এখন ০১৩… নম্বরেও গ্রামীণফোন ঘিওরে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

নিরাপদ বিনিয়োগের আশায় সঞ্চয়পত্রে আগ্রহ

2 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই অঙ্ক থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধ শেষে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা ঘাটতি বাজেট অর্থায়নে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (সংশোধিত) থেকেও দুই হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরে বিক্রীত সঞ্চয়পত্র থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৩২ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মুনাফা পরিশোধ হয়েছে ২০ হাজার দুই কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৭৫ হাজার ১৩৪ কোটি টাকার। সঞ্চয়পত্র বিক্রি হলেও তুলনামূলক কম মূল ও মুনাফা পরিশোধের কারণে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছিল ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে মূল ও মুনাফা পরিশোধে ব্যয় হয়েছিল ২২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মুনাফা পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা।

সর্বশেষ তথ্য মতে, অর্থবছরের শেষ মাস জুনে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকার। ওই মাসে মূল ও মুনাফা পরিশোধে ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ফলে ওই মাসে সরকারের নিট ঋণ হয় তিন হাজার ১৬৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ব্যাংক আমানতের সুদহার নিম্নমুখী এবং শেয়ারবাজারের অস্থির অবস্থার কারণে কয়েক বছর ধরে নিরাপদ বিনিয়োগের আশায় সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন সঞ্চয়ীরা। তবে দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উচ্চহার বজায় থাকায় বাজার সুদহারে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এই অসামঞ্জস্যতা দূর করতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বিভিন্ন সময় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার এসইসি সম্মেলনকক্ষে ব্যাংক পরিচালক ও নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগামী ৮ আগস্ট পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।

এর আগে গত ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার আল্লাহ মালিক কাজেমী বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকেই দেশের বাজারে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে ছিল। এই মুহূর্তে এটা বজায় রাখার জন্য ব্যাংকগুলো প্রতিশ্রুতি দিলেও বাজারে বড় ধরনের কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা প্রধানত আসছে এই সঞ্চয়পত্র থেকে। ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড কার্ভ উন্নত হচ্ছে না বলেই দেশের বন্ড মার্কেট উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। এই প্রতিবন্ধকতাটি দ্রুত দূর করতে হবে।’

তিন বছরের বেশি সময় ধরে সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১১ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়। এই সময়ে দেশের ব্যাংক খাতের আমানতের সুদহার কমতে কমতে কখনো কখনো মূল্যস্ফীতির নিচেও চলে যায়।

গত ৮ জুন বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণত দুই-তিন বছর পরপরই আমরা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করি। কিন্তু এবার একটু দেরি হয়েছে। এবার বাজেটের মাসে বা বাজেটের পরের মাসেই এটা পর্যালোচনা করা হবে।’ তবে জুলাই মাস শেষেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি অর্থমন্ত্রী। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারের সঙ্গে বাজার সুদহারের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। আগামী ৮ আগস্ট আমরা এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নেব।’

বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ এসেছে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে। ওই সময়ে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছে ১৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। পেনশনার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে তিন হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে তিন হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মেদায়ি হিসাবে নিট ঋণ রয়েছে ছয় হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে নিট ঋণ আসে এক হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাটতি অর্থয়ানে সঞ্চয়পত্র থেকে নজর সরিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমসহ সব ধরনের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়াল লক্ষ্য রয়েছে ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা (সংশোধিত) ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ