রবিবার,১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:১৯
যে কারণে ফোনের চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে পদত্যাগের জন্য চাপ জাকারবার্গকে রোনালদো ছাড়াই সেমিফাইনালে পর্তুগাল অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতকেই ফেভারিট মানছেন ওয়ার্ন কাশ্মীর ইস্যুতে আফ্রিদিকে মিয়াঁদাদের কড়া বার্তা অস্ট্রেলিয়ায় কিসের অভাব অনুভব করবে ভারত, জানালেন হাসি ওয়েডিং গিফট! মাদাম তুসোয় উঠছে দীপিকার মূর্তি

নামাজ, মোনাজাত ও দোয়া প্রসঙ্গে

3 weeks ago , বিভাগ : ধর্ম,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: শাহ ওয়ালি উল্লাহ

খতিব, সোবহানবাগ জামে মসজিদ, ধানমন্ডি, ঢাকা

ইসলাম ও দ্বীন সম্পর্কে আমাদের সাধারণ মুসল্লিদের নানা ধরনের প্রশ্ন রয়ে যায়। তেমনি দু-একটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা আজকের জুমার খুতবায় আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করব। মোনাজাত ও দোয়া এবং নামাজ কায়েম করা নিয়ে আমাদের মুসলমানদের মধ্যে অনেক ধরনের মতদ্বৈততা দেখা দেয়। ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে? প্রথমেই জেনে নিই মোনাজাত ও দোয়া এই দুটির মধ্যে পার্থক্য কী এবং কোন সময় কোনটি করতে হয়।

মোনাজাত ও দোয়া দুটিই আরবি শব্দ। মোনাজাত শব্দের অর্থ হচ্ছে চুপিচুপি কথা বলা। অর্থাৎ আল্লাহপাকের সঙ্গে একান্তে কথা বলা। আর দোয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে উচ্চৈঃস্বরে ডাকা। আল্লাহপাকের কাছে কোনো কিছু দুভাবেই চাওয়া যায়। একান্তেও আল্লাহর কাছে চাওয়া যায় আবার উচ্চৈঃস্বরেও চাওয়া যায়। সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর নবী (সা.)-কে একবার জিজ্ঞেস করলেন- আল্লাহপাক কি আমাদের অতি কাছে যে, আমরা তাকে ফিসফিস করে ডাকব? নাকি আল্লাহপাক আমাদের থেকে অনেক দূরে, আমরা তাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকব? এই প্রশ্নের উত্তর আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৬ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন, আমার বান্দা যদি তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাহলে তাদের বলে দাও, আমি তাদের কাছেই আছি। যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি এবং জবাব দিই। কাজেই তাদের আমার আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং আমার ওপর ঈমান আনা উচিত- একথা তুমি তাদের শুনিয়ে দাও, হয়তো সত্য-সরল পথের সন্ধান পাবে। কোরআনে এমন ২১টি প্রশ্ন আছে, যে প্রশ্নগুলো আল্লাহর নবীকে করা হয়েছিল আর আল্লাহও তাঁর নবীকে মাধ্যম বানিয়ে উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু এই একটিমাত্র প্রশ্ন, যার উত্তর আল্লাহপাক সরাসরি দিয়েছেন। নবী (সা.)-কে মাধ্যম বানাননি।

এবার নামাজ কায়েম করা সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক। প্রথমত জেনে যথাযথভাবে জামাতে নামাজ পড়া। কেননা নামাজের ইকামতে বলা হয়, কদ কা মতিস্সালা। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলো, নিজে যেমন নামাজ আদায়কারী হবো ঠিক তেমনি আমার পরিবারের সবাইকে নামাজ পড়তে বাধ্য করব। পরিবারের যেসব সদস্যের বয়স সাত বছরের বেশি, তাদের নামাজ পড়তে বাধ্য না করলে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তৃতীয় হচ্ছে, যারা নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ে জাতি ও সমাজের নেতৃত্ব দেন, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নামাজ পড়তে বাধ্য করা। নামাজ কায়েম করা সবারই দায়িত্ব। আর সমাজে নামাজ কায়েম করতে পারলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

শ্রুতিলিখন : ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ