সোমবার,১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৫:৪০
গোবিন্দগঞ্জে ভোটে লড়বে ৮জন ফারুক আলম ইস্যুতে ঐক্য সাঘাটা ও ফুলছড়ি বিএনপি রংপুর বিভাগের শেষ্ঠ এ এস আই সন্মাননা পেলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার এ,এস আই শওকত গাইবান্ধার ৩ টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি ৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রংপুর চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রম গোবিন্দগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার লালমনিরহাটে ১৬ সংসদ প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন

দেশি পোশাকে বেশি আগ্রহ

6 months ago , বিভাগ : সারাদেশ,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়েই চলছে ঈদের কেনাকাটা। দাম তুলনামূলক কিছুটা বাড়লেও পছন্দের পোশাক কিনতে পিছপা হচ্ছে না ক্রেতারা। এবারের ভালো দিক হচ্ছে হিন্দি সিরিয়ালের পোশাক নিয়ে নারীদের খুব একটা বেশি আগ্রহ নেই। বরং দেশি সুতির পোশাকেই যেন স্বস্তি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কেনাকাটার চিত্র তুলে ধরেছেন কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকরা।

নীলফামারী : নীলফামারীতে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে চলছে ঈদ কেনাকাটা। শহরের পৌর সুপার মার্কেট, মকবুল হোসেন মার্কেট, হাজী মহসীন সড়ক, খয়রাত হোসেন মার্কেট, এবাদত প্লাজা, বড় মসজিদ সড়ক, বড়বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দামাদামির দৃশ্য।

ব্যবসায়ীরা জানায়, এবারে মেয়েরা ঝুঁকেছেন দেশীয় সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক ও শাড়ির দিকে। কমেছে ভারতীয় শাড়ি ও তৈরি পোশাকের চাহিদা। দেশি সুতির থ্রিপিস, গাউন ও কাজ করা লং ফ্রক, টুপার্ট, ফোরপার্ট, কুর্তি, জিপসি, সারারা ও ফোরপিস রয়েছে পছন্দের তালিকায়। ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাঞ্জাবির পাশাপাশি প্যান্ট, শার্ট।

শহরের ক্রেতা শাহিদা বেগম বলেন, ‘এবারে ঈদের বাজারে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কাপড় কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে। দোকানের কালেকশন থেকে পরিবারের সদস্যদের পছন্দের বিভিন্ন কাপড় মিলছে।’ অপর ক্রেতা সেলিনা সাথী বলেন, ‘দেশীয় তৈরি কাপড়ের দিকে এবার আকর্ষণ বেশি। গরমের কারণে আমি সুতির থ্রিপিস কিনেছি। সাধ্যের মধ্যেই পছন্দের কাপড় পেয়েছি।’

চরফ্যাশন : ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চরফ্যাশন ঈদের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। মার্কেটগুলোতে পুরুষ ক্রেতাদের তুলনায় কলেজ শিক্ষার্থী ও নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে। সদর রোডের হাইচয়েজ, নিউ অঙ্গবিলাশ, ম্যান্সস্টাইল, টপটেন, ক্লাস পয়েন্ট ও জনতা রোড সিমলা গার্মেন্টস দুলাল, ফ্যাসন গার্মেন্টস ও বৈশাখী গার্মেন্টস ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মডেলের ইন্ডিয়ান সালোয়ার-কামিজ ও দেশি ব্র্যান্ডের পোশাক কিনছেন তরুণ-তরুণীরা। তবে ইন্ডিয়ান পোশাকের চেয়ে দেশি পোশাকের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

পার্বতীপুর : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ঈদের বাজারে ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। বিপণিবিতানগুলোতে মালিক ও কর্মচারীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতা সামলাতে। তবে পোশাকের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। তৈরি পোশাকের দাম এত বেশি নেওয়া হচ্ছে যে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কেনাকাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতা মনসুর আলী বলেন, আমরা কৃষকরা যা কিছু বেচতে আসি তার কোনোটার উপযুক্ত মূল্য পাই না। আর যা কিছু কিনতে আসি তার কোনোটাতে হাত দেওয়া যায় না।

ফাহমিদা হক ও অনামিকা এ দুই বোন এসেছেন ভবেরবাজার থেকে। তাঁদের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, দুই মণ ধান বিক্রি করে বড়জোড় সুতির থ্রিপিস পাওয়া যায়। কিন্তু তার দাম চাওয়া হচ্ছে দুই হাজারের বেশি। তাও আবার মানসম্মত না। এ ছাড়া ভারতীয় থ্রিপিসে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাজার মনিটরিং নিয়ে কথা হয়েছে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, এগুলো দেখার জন্য ভোক্তা অধিদপ্তর আছে। তবু তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে উল্লেখ করেন।

গাইবান্ধা : শেষ সময়ে এসে গাইবান্ধার বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটা জমে উঠেছে। বাজারমুখী মানুষের এখন ঢল নেমেছে। ভারতীয় কাপড়ের চাহিদা থাকলেও এবার দেশি কাপড়ের বিক্রি তুলনামূলক বেশি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। শহরের সুপার মার্কেটের কাপড়ের দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পরে ক্রেতাদের ভিড় হচ্ছে বেশি। গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। ক্রেতারা বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানায়, এবার ভারতীয় কাপড়গুলোকে পেছনে ফেলে বাজার দখল করেছে দেশীয় সুতি কাপড়। গরমের কারণে দেশি সুতির থ্রিপিসগুলো সবার পছন্দ ও বিক্রির শীর্ষে রয়েছে। অবশ্য সমানতালে বিক্রি হচ্ছে ইন্ডিয়ান গাউন ও কাজ করা লং ফ্রক।

নওগাঁঁ : ঈদ যতই এগিয়ে আসছে নওগাঁ শহরের বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছ্যন্দ্যবোধ করছে ক্রেতারা। তবে তীব্র যানজটে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। নওগাঁর বাজার ঘুরে দেখা যায়, শহরের দেওয়ান বাজার, শুভ প্লাজা, গীতাঞ্জলি শপিং কমপ্লেক্স, ঠিকানা, বুটিক, ঠাকুর ম্যানশন, পোরশা মার্কেট, ক্রিসেন্ট মার্কেট, বিসমিল্লাহ টাওয়ার, শিলামণি গার্মেন্টস, জোসনার ফুল দোকানগুলোসহ প্রায় দেড় শ পোশাকের দোকানগুলোতে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাকের সমাহার।

ভালুকা : ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ভালুকা উপজেলার সদরের বিপণিবিতানগুলোতে ততই ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে কিনছে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক। উপজেলা সদরের একাধিক মার্কেটে লাউড স্পিকার ব্যবহার করে পণ্যের গুণগতমান ও সাশ্রয়ী মূল্যের ঘোষণা দিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

আপনার মতামত লিখুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ