মঙ্গলবার,১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং,২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:৩৫
বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে চার্জার চালিত ভ্যান মেধাবী ছাত্র অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাপ্রত্যাহারের দাবী ॥ ফুলবাড়ী থানা প্রেস কাবের সাংবাদিকদের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ ॥ ফুলবাড়ীতে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলন ॥ বান্দরবানে বিকল্প প্রার্থী চাই আ.লীগ আজ ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী নীলফামারী-৪ আসনে লেবারপাটি সভাপতি মনোনয়ন চান

‘দুপুরে ভর্তি, রাত পেরিয়ে সকাল ডাক্তার পাইনি’

মূক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঘটমাঝি ইউনিয়নের পূর্ব চিরাইপাড়া গ্রামের প্রবাসফেরত দুলাল মাতুব্বর। তিনি শয্যা পাননি।

 তাই মেঝেতে শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সঙ্গে আছেন তাঁর স্ত্রী হাফিজা বেগম।

দুলাল বললেন, ‘বেড পাইনি। তাই মেঝেতে আছি। তবে তাতে দুঃখ নেই। কিন্তু দুপুরে ভর্তি হয়েছি, রাত পেরিয়ে সকাল সাড়ে ১০টা বেজে গেল, তবু ডাক্তারের দেখা পাইনি। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তাহলে লাভ হলো কী?’

গতকাল বুধবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে আরো অনেকের কাছ থেকেই সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেল।

তবে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বললেন, ‘ডাক্তারদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ঠিক নয়। ডাক্তাররা নিয়ম মতোই রোগীদের দেখাশোনা করছেন।

দুপুর দেড়টার দিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের মেঝেতে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় রোগীদের কম্বল বিছিয়ে মেঝেতে থাকতে দেখা গেছে। সার্জারি, শিশু, মহিলা ওয়ার্ডে রোগীর চাপ থাকায় অনেককে মেঝেতে থাকতে দেখা গেছে। কেউ কেউ মেঝেতে বিছানোর জন্য একটি ফোমের শয্যা পেলেও অনেকের ভাগ্যে জোটে শুধু একটি কম্বল ও বালিশ। ঠাণ্ডার মধ্যে পাতলা একটি কম্বল বিছিয়ে রোগীরা মেঝেতে থাকছে।

জানতে চাইলে আরএমও বলেন, ‘ডায়রিয়া ওয়ার্ড সব সময় গুরুত্ব সহকারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। সকালে পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন আবার পরিষ্কার করা হবে। ‘ তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীদের অনেক চাপ। তাই মেঝেতে রাখতে হচ্ছে। আমাদের সাধ্যমতো রোগীর বেড ও কম্বল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেহেতু ১০০ শয্যার হাসপাতাল, তাই আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। ‘

সরেজমিনে গিয়ে গতকাল ১০০ শয্যার এ হাসপাতালের অনুসন্ধান কেন্দ্রে কাউকে দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার দাস বলেন, ‘সদর হাসপাতালের অনুসন্ধান কেন্দ্রে একজন অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। হয়তো তাঁর অন্য কাজ থাকায় একটু সময়ের জন্য অন্য কোথাও যেতে পারেন। তবে আমি তাঁকে অনুসন্ধান কেন্দ্রে ডিউটি করতে দেখেছি। ‘

এসব চিত্রের বাইরে আরো কয়েকটি চিত্র পাওয়া গেল, যা রোগীদের জন্য স্বস্তির এবং আশ্বস্ত হওয়ার মতো। হাসপাতাল ভবনের তিন তলার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই চোখে পড়ে বিভিন্ন বয়সের নারীদের ভিড়। সকাল থেকে বেলা বাড়তে থাকলে ভিড়ও বেড়ে যায়। গর্ভবতীকালীন ও অন্য আরো বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এ নারীরা এসেছেন।

কথা হয় ভ্যানচালক সুমন মোল্যার স্ত্রী সীমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর আগে আমার প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় হাসপাতালে এমন চিকিৎসা পাইনি। এটা দ্বিতীয় সন্তান। পাঁচ মাসের গর্ভবতী আমি। অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে এসেছি। এর আগেও এসেছিলাম। এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়। ’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম সন্তান ক্লিনিকে হয়েছে। সুদে টাকা ধার করে অপারেশন করেছিলাম। এবার আর ক্লিনিকে যাব না। সময় হলে এখানেই অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিব। ‘

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বললেন মাদারীপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর শকুনী এলাকার গর্ভবতী তানমিরা বেগম, রাস্তি এলাকার লাবণী বেগম, পাঁচখোলা এলাকার আয়শা ও সাবিনা বেগমসহ ১০-১২ জন গর্ভবতী।

নবজাতকের মা মিতু আক্তার বললেন, ‘আমার সন্তান এই হাসপাতালে জন্ম হয়েছে। তবে অপারেশন করতে হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। আমার সন্তানের একটু ঠাণ্ডার সমস্যা আছে। তাই ওর চিকিৎসা চলছে। ‘

হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবা সুলতানা বলেন, আগের চেয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন গর্ভবতী নারী ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ৬০, ৭০ বা ৮০ জন আবার কখনো শতাধিক রোগীও আসে চিকিৎসা নিতে। এ বছরের অক্টোবর মাসে ৬৪, নভেম্বর মাসে ৬১ জন গর্ভবতীর সিজার হয়েছে। এ ছাড়া অক্টোবর মাসে ৭০ ও নভেম্বর মাসে ৮০ জনের স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। আজও (বুধবার) চারজন সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

মাদারীপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য রাজন মাহমুদ বলেন, হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষ গাইনি বিভাগে অনেক সেবা পাচ্ছে। অনেক গরিব-অসহায় নারী টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা কিংবা অপারেশন করতে না পেরে সমস্যায় পড়ে। বতর্মানে মাদারীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মায়েরা সদর হাসপাতাল থেকে এ সেবা নিতে পারছেন। বিশেষ করে ডা. মাহবুবা সুলতানা আসার পর অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

সরেজমিনে আরো দেখা যায়, দরিদ্র পরিবারের এক শিশু ডায়রিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। তাকে হাসপাতালের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে বিনা মূল্যে ভর্তি, ওষুধসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মাসুম শিকদারের বোন লাবণী বেগম বলেন, ‘আমার ভাই প্রতিবন্ধী মাসুমকে নিয়ে হাসপাতালে আসলে এখানকার সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। ’

হাসপাতালে সদ্য যোগ দেওয়া সমাজকল্যাণ বিভাগের সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম সভায় থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁকে ফোনেও পাওয়া যায়নি।

তবে কথা হয় গত ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই বিভাগের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন আকনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আর্থিক সহযোগিতা, বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া, অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাসহ গত দুই মাসে প্রায় শতাধিক গরিব, অসহায় ও প্রতিবন্ধী রোগীদের সহযোগিতা করা হয়েছে। হাসপাতালে যেসব পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই, সেই পরীক্ষাগুলো যদি করানোর দরকার হয়, তাহলে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করে বাইরে থেকে সেই পরীক্ষা করানো হয়েছে। অনেক রোগীকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কলেজছাত্র মিলন মুন্সী বলেন, ‘অনেক রোগী সদর হাসপাতালের সমাজকল্যাণ বিভাগের ব্যাপারটি জানে না। আমি গত দুই মাসে প্রায় ৮-৯ জন প্রতিবন্ধী ও গরিব রোগীকে এর মাধ্যমে সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছি। ‘

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সমাজকল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে অসহায়, গরিব, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া, চশমা দেওয়া, বিশেষ প্রয়োজনে রক্ত দেওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ নানা সেবা দেওয়া হয়।

সূএ: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ