মঙ্গলবার,২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:০২
কাঁদলেন, কাঁদালেন অতঃপর বিদায় নিলেন সাজেবুর রহমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ২টি গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দাবী দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাইসাইকেল আরোহী নিহত হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার ছাত্রদের হামলায় ৬ শিক্ষক আহত ॥ মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ ॥ মামলা রেকর্ড হয়নি ব্যর্থতার দায় নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল প্রধানের পদত্যাগ সন্ধ্যায় মুখোমুখি ঢাকা ডায়নামাইটস-রংপুর রাইডার্স পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনির মৃত্যুবরনকারী শ্রমিকের পরিবারকে ৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করলো জিটিসি

দিনাজপুরসহ উত্তরের তিন জেলায় আমন েেত পোকার আক্রমণ ফলন নিয়ে শংকা ও হতাশায় কৃষকরা

dinajpur_118612
দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ ধানের জেলা দিনাজপুরসহ উত্তরের ৩ জেলায় আমন ক্ষেতে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। পোকার উপদ্রব থেকে মুক্ত হতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও ভাল ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে করে আমনের ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ তাদেরকে সঠিকভাবে পরামর্শ প্রদান করছে না কৃষি বিভাগ। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পোকার আক্রমণ এখনও সহনীয় বা নিয়ন্ত্রনের পর্যায়ে রয়েছে। পোকা দমনে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রেখেছেন তারা।
চলতি আমন মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপিত হয়েছে আর এই জেলাসহ পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর কৃষি অঞ্চলে আমন ধান রোপিত হয়েছে ৪ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যায় সবুজ সমারোহে পরিনত হলেও হঠাৎ করে কারেন্ট পোকা বা বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমনে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ আমন ধান ক্ষেত।
কৃষকরা জানায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের পরপরই এই পোকার আক্রমন দেখা দেয় আমন ক্ষেতে। সঠিক সময়ে কীটনাশক স্প্রে করে অনেকেই তাদের ফসল রক্ষা করতে পারলেও অনেকের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের মতে, এই পোকা কোন ফসলে আক্রমন করলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্ষেতে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো ফসল নষ্ট করে দেয়। আর আক্রমনের সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করলেও ফলন কমে যায়। তাদের অভিযোগ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক সময়ে তাদের কোন পরামর্শ প্রদান করেন না। আর তাই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করতে তাদের বিলম্ব হয়ে যায়।
দিনাজপুরের সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের বলতৈড় গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, এই পোকা কোন ক্ষেতে আক্রমন করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো ফসল নষ্ট করে ফেলে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহন করলেও ফলন কমে যায়।
কৃষক আজিজার রহমান জানান, এই এলাকায় কৃষি কর্মকর্তাদের তেমন একটা পাওয়া যায় না। কোন ধরনের পরামর্শ গ্রহনের জন্য তাদেরকে কীটনাশক ডিলারদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। যদি আক্রমনের আগাম পূর্বাভাস কিংবা আক্রমনের সাথে সাথেই সঠিক পরামর্শ পাওয়া যেতো তাহলে তাদের ফসলের ফলন নিয়ে কোন চিন্তা করতে হতো না।
আতাউর রহমান জানান, তার রোপন করা প্রায় ২ বিঘা (৪৮ শতক) জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। এই পোকা আক্রমন করায় এবারে তাদের ফলন অনেক কমে যাবে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, পোকার প্রকৃত নাম বাদামী গাছ ফড়িং। তবে এই পোকা আক্রমন হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফসল নষ্ট করে বলে কৃষকরা একে কারেন্ট পোকা নামে অবিহিত করেছে। এখন পর্যন্ত যে পোকা ধরেছে তা ক্ষতিকর পর্যায়ে নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জুলফিকার হায়দর আমন ধানে এই পোকার আক্রমন হয়েছে স্বীকার করে জানান, এখনও এটি নিয়ন্ত্রন বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধের অসহযোগিতার অভিযোগ ৭অস্বীকার করে বলেন, সার্বক্ষনিকভাবে কৃষি কর্মকর্তারা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে এবং কৃষকদেরকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ