বুধবার,২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং,৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:৪৪

‘বন্যার পরে কৃষকদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে’ শান্তিতে মারা গেছেন আব্বা : সম্রাট শক্তির উৎস আজ দাফন করে এলাম : শাকিব আফ্রিদির ৪৩ বলে শতক নেইমারের বিরুদ্ধে বার্সেলোনার মামলা মার্কিন হুঁশিয়ারির পর পাকিস্তানের পাশে চীন ভারতের ফের ট্রেন লাইনচ্যুত : আহত ৫০

দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো এক গ্রামের নাম রাকুদিয়া স্বচক্ষে দেখতে আসছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট

indexমোঃআরিফ সুমন,বরিশাল ব্যুরো ঃ দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে যেন আজ উৎসব। সবুজের সমারোহে গ্রামটি সেজেছে অপরূপ সাজে। সাজানো হয়েছে গোয়ালঘর থেকে পুকুর আর হাস-মুরগির খামার পর্যন্ত। প্রাণের স্পন্দন ছড়িয়ে পড়েছে ওই গ্রামের ১৯৮টি পরিবারে। কারণ, আজ তারা বরণ করবে তাদের প্রিয় মানুষকে। শোনাবে তাঁকে নিজেদের দারিদ্র্য জয়ের গল্প। স্বচক্ষে তাঁকে দেখাবে, কীভাবে তারা নিজেদের দারিদ্র্যকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে পাঠিয়েছে জাদুঘরে? উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের ১৯৮ জন নারীর ভাগ্যবদলের চিত্র স্বচক্ষে দেখতে আজ মঙ্গলবার বাবুগঞ্জ আসছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) নামের একটি এনজিওর আমন্ত্রণে তাদের নতুন জীবন শীর্ষক একটি প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে ওই প্রকল্পে অর্থায়ন করে আসছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার সকাল ৮টায় বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। এসময় বিমানবন্দরে তাকে ফুলেল সংবর্ধনা জানাবেন বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান এবং বাবুগঞ্জের ইউএনও আফরোজা বেগম পারুলসহ মাঠ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর থেকে এরপর সড়কপথে সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি যাবেন উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন স্থানীয় দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান। প্রায় একঘন্টা সেখানে অবস্থান করেবেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি ঘুরে দেখবেন ওই গ্রামের ফরাজি বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ির ক্ষুদ্র গরুর ফার্ম, হাস-মুরগির খামার, পুকুরের মাছচাষ, বাড়ির আঙ্গিনা ও পতিত জমিতে সবজি ও ফসলের চাষ এবং কম্পোস্ট সার তৈরি করে ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য জয়ের চিত্র। এসময় তিনি গ্রামের দারিদ্র্য জয়ী নারীদের মুখ থেকে স্বল্প সময়ে তাদের অর্জিত সাফল্যের গল্প শুনবেন।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রধানের আগমন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। বিমানবন্দরে তার নিরাপদ অবতরণ ও উড্ডয়নে জন্য সোমবার সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে মহড়া দিয়েছে একটি সি-প্লেনসহ দুইটি বিমান। এছাড়াও রাকুদিয়া গ্রামকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে সেখানে অবস্থানসহ নজরদারি করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। তাঁর পরিদর্শনস্থল দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে সোমবার থেকেই মানুষ চলাচল সীমিত করা হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীদের ক্ষেত্রেও চালু করা হয়েছে বিশেষ পাশ। বাবুগঞ্জের ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, বিশ্বব্যাংক প্রধানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন জেলা প্রশাসক নিজেই এবং সোমবার সকালে তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করেছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশেষ অনুমতি ও পরিচয়পত্র ছাড়া কোন ব্যক্তিকে তাঁর ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেয়া হবে না।

স্থানীয় দেহেগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান জানান, দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তাকারী প্রিয় মানুষ জিম ইয়ং কিমকে বরণ করতে ওই গ্রামের নারী-পুরুষের মাঝে ব্যস্ততা আর প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের পরিশ্রমের দ্বারা অতি অল্প সময়ে দারিদ্র্য দূর করেছে ওই গ্রামের ১৯৮টি পরিবার। এটি বিশ্বে একটি মডেল হতে পারে। সেই খবর শুনেই তাদের সফলতার কাহিনী শুনতে আসছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। এদিকে দারিদ্র্য জয়ী দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের গৃহবধূ শিউলি বেগম জানান, ২০১২ সালে এসডিএফ থেকে বিশ্বব্যাংকের নতুন জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকার সাথে তার বিয়ের সময় পাওয়া কিছু গহনা বিক্রি করে মোট ২৭ হাজার টাকায় একটি গাভী কেনেন। এরপরে সেই গাভীর দুধ বিক্রি করে পরিশোধ করেন ঋণের টাকা। এর পরের বছর ঋণ নেন ২০ হাজার টাকা। কেনেন আরো একটি গাভী। গাভীর বিষ্ঠা দিয়ে তৈরি করেন কম্পোস্ট সার। বছরজুড়ে শুধু কম্পোস্ট সার বিক্রি করেই এখন আয় হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা। সেই সাথে বাজারে প্রতিদিন বিক্রি করেন গাভীর ৪ লিটার দুধ। এখন তার গোয়ালঘরে গরুর সংখ্যা ৪টি। সংসারে ফিরে এসেছে সুখ এবং স্বচ্ছলতা। এই সাফল্যের গল্প শুধু শিউলি বেগমের একার নয়। দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের ১৯৮টি পরিবারেই রয়েছে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের এমন অনন্য কাহিনী। আর তাদের মুখেই আজ সেই সাফল্যের গল্প শুনবেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ