শনিবার,২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং,৭ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৫৩

পদত্যাগ করলেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সিন স্পাইসার আজ সকালে হজ ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সুন্দরগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ নাটোরে জাতীয় শিক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের মানববন্ধন ফকিরহাটে পৃথক অভিযানে গাজা সহ আটক-২ রাজধানীতে এপিবিএন-৫ এর অভিযানে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল, ইয়াবা উদ্ধারসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক নাটোরে ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

ত্রিপুরায় আখেরে বিজেপির লাভ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ত্রিপুরায় আখেরে লাভ হলো বিজেপিরই। খুব শিগগির রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের হাত ধরেই কমিউনিস্ট-শাসিত ত্রিপুরা বিধানসভাতেও ঘাসফুলের (তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক) বদলে ফুটতে চলেছে পদ্ম (বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক)।

সিপিএম-সমর্থিত বিরোধীদের প্রার্থী মীরা কুমারকে ভোট দেবে না ত্রিপুরার তৃণমূল কংগ্রেস। বহু আগেই এই ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেতারা। আজ সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন সেটা তাঁরা করেও দেখালেন। তৃণমূল হাইকমান্ড অবশ্য ভোটের বহু আগেই ছয় বিধায়কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

আজ ভোটদানের পর প্রথম আলোকে দলছুট তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, ‘সিপিএম-সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী মীরা কুমারকে ভোট দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ছিল না। ঘোষণামতোই আমরা বিজেপি প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দকেই ভোট দিয়েছি।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরেই ত্রিপুরায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ অমান্য করেই ত্রিপুরার ছয় তৃণমূল বিধায়ক মীরা কুমারকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এবার ভোটও দিলেন বিজেপি প্রার্থীকেই। ফলে তৃণমূল এখন ত্রিপুরায় শুধুই সাইনবোর্ডসর্বস্ব হয়ে পড়ল।

ছয় বিধায়কই এদিন আরও স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁদের বিজেপিতে যোগদান এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র। প্রথম আলোকে সুদীপ বলেন, ‘রাজ্যবাসীর প্রত্যাশাকে মর্যাদা দিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই সিপিএমকে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরাস্ত করব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ বিজেপিতে কবে যোগ দিচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছুই জানাননি তিনি।

তৃণমূলের ছয় বিধায়ক ছাড়াও কংগ্রেসের এক বিধায়কও বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, কংগ্রেস বিধায়ক রতনলাল নাথের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে। এমনকি রামনাথের ভোট প্রচারেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর কংগ্রেসের শক্তিক্ষরণ সময়ের অপেক্ষা।

৬০ সদস্যের ত্রিপুরা বিধানসভায় বামদের বিধায়কসংখ্যা ৫১। তাঁরা সবাই মীরা কুমারকে ভোট দিয়েছেন বলে খবর। তবে বিধানসভার স্পিকার অসুস্থ থাকায় আগরতলায় রাজ্য বিধানসভার বদলে কলকাতায় ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেসের দুই বিধায়কও ভোট দিয়েছেন মীরা কুমারকে। তিন সংসদ সদস্যের ভোটও মীরা পেয়েছেন। কিন্তু ২০১৮-য় বিধানসভা ভোটের আগে দলবদলের হিড়িকে সাত বিধায়কের ভোট গেল বিজেপি শিবিরে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের আঁতাতের প্রতিবাদ করেই তৃণমূলের যোগ দিয়েছিলেন ত্রিপুরার ছয় কংগ্রেস বিধায়ক। এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুদীপ দাবি করেন, সিপিএম বিরোধিতার রাস্তা থেকে তাঁরা সরবেন না। বিজেপি প্রার্থী রামনাথকে তাঁরা ভোট দেবেন কি না, সে প্রশ্নের জবাব অবশ্য দিতে অস্বীকার করেন সুদীপ। তিনি শুধু জানান, বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা রাম মাধব এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় নেতা হীমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁদের কাছে ভোট চেয়েছেন। পরিষদীয় দল বসে সিদ্ধান্ত নেবে।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল। বঙ্গের পরিষদীয় মন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। তাঁর নির্দেশেই মীরা কুমারকে সমর্থন করছে দল।’ তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমান, ২০১৮-য় ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন ত্রিপুরার তৃণমূল নেতারা। সেই লক্ষ্যেই বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়ে একধাপ এগিয়ে থাকছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ