বৃহস্পতিবার,১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৯:৪৭
স্বাধীনতার শত্রুদের উচিত জবাব নৌকায় ভোট যতই ষড়যন্ত্র হোক আমি ভয় পাই না: প্রধানমন্ত্রী পলাশবাড়ীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত নৌকায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাসীদের ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ করুন পলাশবাড়ীতে চাল ক্রয়ের উদ্বোধন গোবিন্দগঞ্জে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পার্বতীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

তৈরি পোশাক খাতে ১০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব সিপিডির

4 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ২৮ টাকা করার প্রস্তাব করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শ্রমিকদের জীবনমান বিবেচনায় নিয়ে এই প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সিপিডির জরিপে উঠে এসেছে, শ্রমিকদের ব্যয় ২২ হাজার টাকার বেশি। আয়ের বিপরীতে অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের অন্য সদস্যদের মেটাতে হয়।

প্রতিবেদন তৈরিতে সিপিডি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় জরিপ করেছে। এতে অংশগ্রহণ করেছেন পোশাক কারখানার গ্রেড থ্রি থেকে সেভেন—সব গ্রেডের প্রতিনিধি। এতে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় একটি গুণগত পরিবর্তন এসেছে। ২০১৩ সালে জরিপে খাদ্যজনিত ব্যয় ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয়ের হার ছিল প্রায় সমান সমান। তবে এবার খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। জরিপে বলা হয়, এটা ৪২ শতাংশ ও ৫৮ শতাংশ।

গতকাল রবিবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনযাপনের জন্য ন্যূনতম মজুরি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু। সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুর হক বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো কিছু হয় না। মালিক-শ্রমিক কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও ছাড় দিতে চায় না। এ ছাড়া মজুরি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে এখনো সেই পরিবেশ হয়নি। এ কারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে হয়। নায্যবিচারের দাবিতে ছাত্রদের রাস্তায় নামতে হয়।’ মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়লেও বাড়িভাড়ার কারণে শ্রমিকরা বর্ধিত বেতনের সুবিধা পায় না। এলাকা অনুসারে বাড়িভাড়া নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে মজুরি বাড়ানোর জন্য মালিকদেরও সক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে। ক্রেতারা তাদের নায্য দর দিতে চায় না। দাম বাড়ানোর কথা বললে প্রতিযোগিতার সক্ষমতার কথা বলা হয়। এ ছাড়া কথায় কথায় জিএসপি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। দেশের কোটি কোটি শ্রমিক আছে, কিন্তু তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ছাড়া অন্য কোনো খাতে গবেষণা হয় না। এসব খাতকে গবেষণার আওতায় আনার পরামর্শ দেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে মালিকদের একার দায় দিলে হবে না। এখানে বায়ারদেরও দায় আছে। একটি পোশাক পাঁচ ডলারে কিনে বায়াররা ২০ ডলারে বিক্রি করে। মাঝের এই ১৫ ডলার যায় কোথায়? সেটাও আলোচনা করতে কবে। তাদেরও দায় নিতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা ও দর সবই কমছে। তাই এ শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। দেশের মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। তাই এত বড় একটি খাত নিয়ে কোনো রকম ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ ছাড়া উসকানি না দিয়ে মজুরি বোর্ডের ন্যূনতম মজুরি মেনে নেওয়া উচিত।

সিদ্দিকুর রহমান আরো বলেন, দেশের সোয়েটার কারখানায় অটোমেশনের ফলে এ খাতে শ্রমিকসংখ্যা দিন দিন কমছে। একসময় কারখানায় কাজ শুরু হওয়ার আগে শ্রমিক-মালিক মজুরি নিয়ে বেশ দর-কষাকষির করত। এ দর-কষাকষির ফলে সোয়েটার কারখানার মালিকরা অটোমেশনে চলে গেছেন। এর ফলে এ খাতে শ্রমিকসংখ্যা অনেক কমে এসেছে।

শ্রমিকদের ওপর যৌন হয়রানি সম্ভব নয় দাবি করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের কারখানাগুলোতে ক্রেতারা জানিয়ে বা না জানিয়ে কারখানা পরিদর্শন করে। তারা এসেই কয়েকজন শ্রমিককে আলাদা করে ডেকে নিয়ে তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন। এ ছাড়া প্রত্যেক কারখানায় এখন গোপন ক্যামেরা আছে।’

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ