বুধবার,১৭ই জানুয়ারি, ২০১৮ ইং,৪ঠা মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১:৩৮
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের উদ্বোধন করবেন আগামীকাল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে : শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহীতে ট্রেনে কাটা পড়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা নিহত জলঢাকায় গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু ফুলবাড়ীতে গ্রামবিকাশের উদ্যোগে হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ॥ দিনাজপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজিবি’র শীতবস্ত্র বিতরণ ॥ বিরলে ইজি বাইকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

তৃণমূল মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে স্বাবলম্বী করতে ধনীদের আরও ধনী না করে তৃণমূল মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন প্রয়োজন। এজন্য তৃণমূল মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যার সুফল পাচ্ছে জনগণ। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেখতে চাই। এটি যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন সঠিকভাবে পরিচালনা করা হয় সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

অনলাইনের মাধ্যমে দেশের সব জেলা ও উপজেলা এবং অনেক ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র যুক্ত ছিল গণভবনের সঙ্গে। এর মধ্যে বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও চাঁদপুর জেলার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, চিকিৎসাসেবা পাবে, প্রতিটি মানুষ আলোকিত হবে। এগুলোই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর কিভাবে দেশের মানুষের উন্নতি করা যায় আমাদের সেই ভাবনা ছিল সবসময়। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা বিনামূল্যে বই দিচ্ছি, বৃত্তি প্রাইমারি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত বই দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা পর্যন্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যেই দেশের মানুষ উন্নয়নের সুফল পেতে শুরু করেছে।’

শেখ হাসিনার ভাষ্য, ‘আমাদের উন্নয়ন সার্বিকভাবে সব মানুষের, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জন্য। গ্রামের মানুষের উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিসহ আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি যেন বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক স্থানে পৌঁছাতে পারি।’

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তার কথায়, ‘আমরা যেসব উন্নয়ন কাজ করতে পেরেছি ও করার পদক্ষেপ নিয়েছি সেগুলোর ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন, তৃণমুল পর্যায়ের মানুষের উন্নয়ন। ডিজিটাল বাংলাদেশের মানুষ এখন সব ধরনের সেবা পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনমান উন্নত ও সহজ করাই আমাদের লক্ষ্য, আমরা তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ ও পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। এ সময় সরকারর উন্নয়ন বিষয়ক একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। গণভবনে আরও ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা জানান, দেশের সব জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একদিনের বেতন দিয়ে তহবিল তৈরি করবেন। এছাড়া তিনি নিজের কল্যাণ তহবিল থেকেও অনুদান দেবেন।

‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন দিনের উন্নয়ন মেলা। ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪টি জেলা ও সব উপজেলায় প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের কাছে উন্নয়ন তৎপরতা ও সাফল্য প্রচারের লক্ষ্যে এর আয়োজন করেছে সরকার।

মেলায় দেশের সব মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পৃথক পৃথক স্টল থাকবে। সব সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর সেবাগুলোও দেওয়া হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক। প্রতিদিন বিকালে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও রয়েছে আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা।

তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়াদি তুলে ধরা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীতের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন তৎপরতা প্রচারের জন্য এ মেলার আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।সূএ: এবিনিউজ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ