শনিবার,২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১১:৫৭
আজ দেশজুড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা পার্বতীপুর প্রগতি সংঘের নির্বাচন সম্পন্ন — সভাপতি আনোয়ারুল – সম্পাদক আমজাদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে চাই: রুবেল কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক কালুখালি থানা-মাহেন্দ্রপুর ফাড়িঁ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন

তীব্র গরম, বাড়ছে ভোগান্তি

 মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: সারাদেশে তীব্র গরম দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। ঠিক একইভাবে গরম পড়ছে উত্তরাঞ্চলে।ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রবিবার রাত ২টার দিকে গিয়ে দেখা গেল একটি মাইক্রোবাস থেকে এক বৃদ্ধাকে নামানো হচ্ছে জরুরি বিভাগে ভর্তির জন্য।

ওই বৃদ্ধার স্বজনদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, রাণীশংকৈল উপজেলার গোগড় এলাকা থেকে আসলাম আমরা। তীব্র গরমে স্ট্রোক করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন বৃদ্ধা। তাই এতরাতে হাসপাতালে আনা হলো। পরে ওই রোগীকে জরুরি বিভাগ থেকে হাসপাতালে ইনডোরে ভর্তির নির্দেশ দিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
হাসপাতালের আউটডোরে প্রবেশ করতে লক্ষ্য করা গেল অন্য রোগীর স্বজনরা তীব্র গরমে ক্লান্ত শরীর নিয়ে কেউ মেঝেতে, কেউবা চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছেন। অনেকেই রাস্তায় হাতপাখা দিয়ে রোগীর শরীরে বাতাস দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
গত কয়েক দিনের তীব্র গরমে ঠাকুরগাঁও জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে বাড়ছে গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা।
তীব্র গরমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, গত কয়েক দিনে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়লেও চাহিদা মোতাবেক সরকারি ওষুধ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রোগীদের। এছাড়া, হাসপাতাল থেকে স্যালাইন ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে দরিদ্র রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে অন্তত দুই শতাধিকের বেশি রোগী গরমজনিত কারণে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে।
গড়েয়া থেকে আসা সোলেয়মান আলী নামে এক রোগী জানান, গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছি।  সারাদিনে ছয় বারের বেশি বিদ্যুৎ লোডশেডিং দিচ্ছে। হাসপাতালে ফ্যানের তীব্র সংকট। ফলে হাতপাখা দিয়ে গরম নিবারণের চেষ্টা করছি। শুধু সোলেয়মান নয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সকল রোগী ও স্বজনদের একই অবস্থা। তীব্র গরমে সকল বয়সের মানুষ হাঁস-ফাঁস খাচ্ছে।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুব্রত জানান, গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও রোটা ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পাশাপাশি বয়স্করাও ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপ এখন অনেক বেশি। আমরা সাধ্যমতো জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তাদের আমরা খাবার স্যালাইন দিচ্ছি। পাশাপাশি ক্যানোলা করে শরীরেও স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন গরমের সময় শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। এ কারণে বেশি বেশি করে পানি খেতে হবে। সবাইকে সার্বিকভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ