বৃহস্পতিবার,১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:২২
স্বাধীনতার শত্রুদের উচিত জবাব নৌকায় ভোট যতই ষড়যন্ত্র হোক আমি ভয় পাই না: প্রধানমন্ত্রী পলাশবাড়ীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত নৌকায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাসীদের ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ করুন পলাশবাড়ীতে চাল ক্রয়ের উদ্বোধন গোবিন্দগঞ্জে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পার্বতীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন কথা বলাই ঝুঁকিপূর্ণ’

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক হেনস্থা ও শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও মিছিলের কর্মসূচি পালিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তবে উপ-উপাচার্য বলছেন, কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে এবং এরপরও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনে আরো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক হামলার শিকার হয়েছে আন্দোলনকারী এবং তাদের সঙ্গে সংহতি জানানো শিক্ষকরাও। এর বাইরেও সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও নানাভাবে নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে শনিবার অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে সূর্যসেন হলে হেনস্থার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ থেকে ৭২ ঘণ্টার ক্লাস বর্জনের ডাক দেয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে একজন শিক্ষার্থী তার বক্তৃতায় বলেন, ‘আমরা যারা এ মানববন্ধন করছি, নিপীড়নের প্রতিবাদ করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি তাদের সার্বিক নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে।’

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সাময়িক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে তিনজনের বিরুদ্ধে। কিন্তু একই ধরনের উদ্বেগ দেখা গেছে।

গত রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে শিক্ষক তানজিম উদ্দিন আহমেদ যেভাবে হুমকি ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন তার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মানববন্ধনও করেছেন।

শিক্ষার্থীদের একজন সুমাইয়া হালিম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন কথা বলাটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ সব এখন রাজনৈতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই সরকারকে সার্ভ করতে চাচ্ছে। এর মধ্যেই কেউ যখন অধিকার খর্বের প্রতিবাদ করে – তখনই বলা হয় অন্যায় করছো। এর প্রতিবাদেই আমরা সমাবেশ করছি।’

আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে মোটেও নিরাপদ মনে করছেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে নানা ঘটনা ঘটছে। আমাদের শিক্ষকের সঙ্গে অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব কারণেই আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে রাস্তায় এসেছি।’

মানববন্ধন ও সমাবেশের পর প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের একটি বেশ বড় মিছিল কলাভবন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু এর পরপরই টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্য চত্বরে আরেকটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে গতকাল উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি দল।

কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থী কিশোয়ার ওয়াসেকার অভিযোগ, শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী কেউ এখন নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না – যা তাদেরকে ক্ষুব্ধ করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতিকে এমন জায়গায় আনা হয়েছে যে মত প্রকাশের অধিকার বলতে আর কিছুই নেই। আমরা চাই কোটা সমস্যার সমাধান আর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার হোক।’

আর মীর আরাফাত মানব বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের আহ্বানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই ক্লাস বর্জন করছে শিক্ষার্থীরা। এ কারণেই ক্যাম্পাসে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ক্যাম্পাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলেই প্রতিদিন নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটছে তা নিয়ে আমরা সজাগ আছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি ঘটনায় তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম ও হল প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। তারপরও অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপ-উপাচার্য অবশ্য ক্যাম্পাসের চলমান ঘটনার বাইরে কারো ইন্ধন বা যোগাযোগ রয়েছে কিনা- তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এটি পরিষ্কার হলে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ