সোমবার,১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:৫৫
১০ বছরে দেশের মানুষকে আলোর পথযাত্রী করেছেন শেখ হাসিনা : মতিয়া চৌধুরী ক্রমশ ভাঙছে দূরত্বের দেয়াল অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল-গণশিক্ষা মন্ত্রী ঝিনাইগাতীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১ ফুলবাড়ী সরকারী খাদ্য গুদামে চাল ক্রয়ের উদ্বোধন লালমনিরহাটে শৈত্য প্রবাহ সূর্যের দেখা মেলেনি খেড়কাটিতে পজিটিভ বাংলাদেশের উদ্দ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ।

জেনে নিন, কৃষিতে উচ্চশিক্ষার ইতিহাস

4 weeks ago , বিভাগ : শিক্ষা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  অবিভক্ত বাংলায় ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কৃষি মন্ত্রণালয় যার অন্তর্গত ছিল কৃষি এবং লাইভস্টক। ১৯৩৮ সালে “বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (BAI)” কর্তৃক বি এজি কোর্স চালু করা হয় যেখানে লাইভস্টক সায়েন্স ছিল মূল কোর্সের মাত্র ১৫·৭%। অতঃপর ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানে কৃষি ও লাইভস্টক সেক্টর দুটোকে আলাদা করা হয়। ১৯৫০ সালে কুমিল্লাতে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় “ইস্ট পাকিস্তান ভেটেরিনারি কলেজ” যা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। এরপর ১৯৫৭ সালে আরো পরিবর্ধিত এবং পরিমার্জিতরূপে “ইস্ট পাকিস্তান ভেটেরিনারি কলেজ” ময়মনসিংহে স্থানান্তরিত হয়ে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে “ইস্ট পাকিস্তান ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি কলেজ” নামে।

১৯৫৯ সালে তৎকালীন জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং খাদ্য ও কৃষি কমিশনের সুপারিশক্রমে ১৯৬১-৬২ সেশনে বাংলাদেশের একমাত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে “ইস্ট পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” যাত্রা শুরু করে ১৯৬১ সালের ১৮ই আগস্ট “ইস্ট পাকিস্তান ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি কলেজ” ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে (অবিভক্ত পাকিস্তানে একসঙ্গে দুটো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা করে একটি পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহে এবং অন্যটি পশ্চিম পাকিস্তানের লিয়াল্লপুরে)। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে “ইস্ট পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়”-এর নাম পরিবর্তিত হয় “বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” এ। ইস্ট পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় দুটি অনুষদ নিয়ে (কৃষি অনুষদ এবং ভেটেরিনারি অনুষদ) যার অন্তর্গত ছিল ২৩টি বিভাগ। পরবর্তীতে ১৯৬২ তে অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি, ১৯৬৩-৬৪ তে এগ্রি ইকোনমিক্স ও রুরাল সোসিওলজি, ১৯৬৪-৬৫ তে এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি এবং ১৯৬৭-৬৮ তে ফিশারিজ অনুষদে বিস্তৃতি লাভ করে।

অন্য এক ঘটনায় জানা যায়, অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে শের এ বাংলা এ কে ফজলুল হক “বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (BAI)” প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৩৮ সালে। ১৯৪৭ সালে এর নামকরণ হয় “ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট”। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নাম পরিবর্তিত হয় “বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট”। গোড়াপত্তনের পর থেকে BAI ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কৃষি অনুষদে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। অতঃপর ১৯৬১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর শিক্ষা কার্যক্রম বাকৃবিতে স্থানান্তরিত হয় ১৯৬৪ সালে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের জুলাই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে “শের এ বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়”-এর উদ্বোধন করেন। ২০০১ এ শুধুমাত্র কৃষি অনুষদ দিয়ে শুরু করার পর ২০০৭ সালে এগ্রি বিজনেস, ২০১২ সালে এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি অনুষদ এবং ২০১৭ সালে ফিশারিজ ও একোয়াকালচার অনুষদ এ বিস্তৃত হয়।

উল্লেখ্য, বাকৃবির যাত্রা শুরু দুটো অনুষদ নিয়ে কৃষি ও ভেটেরিনারি (১৯৬১)। কিন্তু ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (কলেজ) বাকৃবির অধিভুক্ত হয়েছে ১৯৬৪ তে অ্যাফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠান হিসেবে, অনুষদ হিসেবে নয়। বাকৃবির যাত্রা শুরু “ইস্ট পাকিস্তান ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি কলেজ” এবং এর ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে এবং এখন পর্যন্ত সংস্থাপন অনুযায়ী ভেটেরিনারি অনুষদই বাকৃবির যেকোনো তালিকায় ১নং সিরিয়ালে থাকে। বাকৃবি কখনোই “ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট” কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের অধীনে ছিল না। ভেটেরিনারি অনুষদ যেমন বলতে পারেনা আমরা বাকৃবির প্রতিষ্ঠাতা তেমনি অন্য কেউই বলতে পারে না। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সবাই।

ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচার ইন্সটিটিউট ও ইস্ট পাকিস্তান ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি কলেজ দুটোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইস্ট পাকিস্তান ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি কলেজের বিভাগগুলো ভেটেরিনারি অনুষদের আওতাধীন হলেও, ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচার ইন্সটিটিউট কিন্তু কোনো স্বতন্ত্র অনুষদ হয়নি। বরং বাকৃবির কৃষি অনুষদের অ্যাফিলিয়েটেড কলেজ হিসেবেই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হবার আগ পর্যন্ত সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ