শনিবার,২১শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,৮ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:০৪
ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সিংড়ায় আকর্ষনীয় স্টান্ট শো -২০১৭ অনুষ্ঠিত কৃষক লীগকে শক্তিশালী করতে হবে -রমেশ চন্দ্র সেন চিতলমারীতে গড়ে উঠেছে বিষমুক্ত শুটকি পল্লী ভোলায় শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ ঘাটাইলে ভটভটি চাপায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু

চিরিরবন্দরে ধান ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতির সুফল পাচ্ছে কৃষকেরা

chir-photo-1-manik

মোহাম্মাদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চাষীরা ধান েেত বিষ প্রয়োগ ছাড়াই তিকর পোকা দমন ও ধ্বংস করার জন্য পার্চিং ব্যবস্থায় কৃষকরা সাফল্য পাওয়ায় আগ্রহ্য বাড়ছে। গত বছর অধিকাংশ চাষী ধান েেত তিকর পোকা দমনের জন্য েেত ধৈঞ্চা গাছের চারা রোপণ এবং ডেড পার্চিং করে আশানুররুপ সাফল্য পেয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৬১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। এ বছর উপজেলার কৃষকরা ১৬ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে জীবন্ত পার্চিং ধৈঞ্চা গাছের চারা রোপণ ও ৬ হাজার ৫৬১ হেক্টর জমিতে ডেড পার্চিং এর ব্যবস্থা করেছে। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। ধানেেত চোখ বুলালেই জীবন্ত পার্চিং ধৈঞ্চা আর ধৈঞ্চা এবং ডেড পার্চিং।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহামুদুল হাসান বলেন, ধান েেত সবুজের মাঝে ধৈঞ্চা গাছের হলুদ ফুলের সমারোহ প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য অনেক খানি বাড়িয়ে দেয়। ধৈঞ্চা গাছের হলুদ ফুল শুধু শোভা বর্ধনের জন্য নয় বরং হলুদ ফুলে আকৃষ্ট হয়ে উপকারী পোকা আসে ধান েেত। এরা তিকর পোকা ধ্বংস করে। এছাড়াও ধৈঞ্চ গাছে দিন ভর ফিঙ্গে, শালিক ও বূলবুলিসহ নানা ধরনের উপকারি পাখী বসার সুব্যবস্থার ফলে তিকর পোকা দমন হয়।

পোকা দমনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে নানা ধরনের কীটনাশক স্প্রে করতে হয় না ধান েেত। এক দিকে যেমন চাষীদের আর্থিক তি হয়, অন্যদিকে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ হয়। খেতে হয় বিষাক্ত ধানের ভাত। ফলে মানুষের নানা ধরণের রোগ-বালাই সৃষ্টি হয়। তাই বালাই থেকে রা পেতে কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট আফ্রিকান জাতের ধৈঞ্চার দ্বারা জীবন্ত পার্চিং পোকা দমনের সবচেয়ে সহজ উপায় এবং কম খরচে পরিবেশ বান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনায় কৃষকের জন্য সরবরাহ করে।

জীবন্ত পার্চিং এর মাধ্যমে বিশেষ করে ধানের মাজরা পোকা এবং পাতা মোড়ানো পোকা দমন হয়। একমাত্র জীবন্ত পার্চিংয়ের মাধ্যমে দূষন মুক্ত পরিবেশে, বিষ মুক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব। কৃষকরা প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫টি ধৈঞ্চা গাছের চারা রোপন করে জীবন্ত পার্চিংয়ের মাধ্যমে ধানের েেতর তিকর পোকা দমন করতে পারে এবং ধৈঞ্চা গাছের সবুজ পাতা থেকে জৈব সার ধান েেতর উর্বরতা বৃদ্ধি সহায়তা পেতে পারে। জীবন্ত পার্চিং পদ্ধতি চিরিরবন্দর উপজেলার চাষীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ পদ্ধতি অনুসরণকারী কৃষকদের মধ্যে আফজাল হোসেন, আজিজুল ইসলাম, আমির আলী, আব্দুল কাইয়ুম, ইব্রাহীম, হিসি চন্দ্র, আনোয়ার, সাইদুর রহমান, ফরমান আলী, পংকজ কুমার দাস, বিষু দাস, আকরামসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, জীবন্ত পার্চিং পদ্ধতি বোঝানোর সময় তারা বিশ্বাস করতে পারেনি। পরে এ পদ্ধতির গুনাগুন দেখে বিস্মিত হন। তারা এ বছর স্ব-উদ্যোগে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুন হারে এ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। ফলে আর্থিক তি, পরিবেশ ও বায়ু দূষণ এবং নানা ধরনের রোগবালাই থেকে নিজে ও জাতিকে রা করতে পেরেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

কৃষি,রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


%d bloggers like this: