শুক্রবার,২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:৫৯

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার সাড়ে ১৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বাগাতিপাড়ার দরিদ্র মেধাবী সজনীকে ল্যাপটপ দিলেন ইউএনও পাঁচবিবিতে নগত অর্থ বিতরণ সৈয়দপুরে সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে খুচরা পয়সা সংগঠন ইটভাটার কালোধোঁয়ায় ফসলের তিপূরণের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন লালমনিরহাটে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার বায়তুল মুকাররমে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সময়সূচি

চিরিরবন্দরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: আর মাত্র ক’দিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। তাই জমে উঠেছে ঈদের বাজার। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে চিরিরবন্দর উপজেলার কেনাকাটায় বাজারের বিপণীবিতানগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জের বিপণীবিতানগুলোতেও ক্রেতাদের উপঁচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিন-রাতে যখনই সুযোগ হচ্ছে তখনই ঈদের কেনাকাটায় বেরিয়ে পড়ছেন নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ ভিন্ন বয়সের ক্রেতারা। তবে এসব বাজারে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে মহিলা ক্রেতার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

অন্যান্য বছরের তুলনায় রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। তবে রোজার প্রথম থেকেই কাটা কাপড়ের বিপণীবিতানগুলোতে ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে অনেক ব্যবসায়ী জানান। বাজারে আগত অনেক ক্রেতাই জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সব রকমের আইটেমেরই দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। তার পরেও সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিপণীবিতানগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তবে ইফতারির পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিপণীবিতানগুলোতে ভিড় বেশি থাকছে। ভারতীয সীমান্তবর্তী এ উপজেলার ফ্যাশন প্রিয় তরুণীদের পোশাকের জায়গাটি বরাবরের মতো এবারো দখলে রেখেছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চিরিরবন্দর উপজেলা সদর, ভূষিরবন্দর, রাণীরবন্দরের সড়কে রিকশা, ইজিবাইকের বহর। এতসব ঝক্কি-ঝামেলার পরও ঈদের দিনটি রাঙিয়ে তুলতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে পছন্দের পোশাকটি খুঁজে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। যে দোকানেই পছন্দ হচ্ছে সেখান থেকেই ক্রেতারা কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এবার ভারতীয় চিত্র নায়ক-নায়িকাদের নামের পোশাকের জয়জয়াকার। তবে নাম যেমনই বাহারি দামও তেমনি বেশি হওয়ায় এসব পোশাক সব ধরণের ক্রেতা কিনতে পারছেন না বলে অনেক ক্রেতা অভিমত ব্যক্ত করেন। এক বছরের শিশু থেকে শুরু করে তরুণীদের এক সেট পোশাক ৫০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, চাকুরিজীবীদের মে মাসের বেতন হাতে এসেছে। তাই রোজার মাঝামাঝি থেকে বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। ঈদের পূর্বেই জুন মাসের বেতন-বোনাস মিলবে, তখনতো ঈদের কেনাকাটায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই বাজারে ঝুঁকে পড়বেন।

এদিকে ক’জন পোশাক ব্যবসায়ী জানান, শুধু ভারতীয় পোশাক বিক্রি বেশি হওয়ার কারণে সব ধরণের পোশাকে ভারতীয় নায়িকাদের নামের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানগুলোতে বিভিন্ন পাঞ্জাবির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে ট্রাউজারও। তবে সূতি পাঞ্জাবির চাহিদাই বেশি। শুধু ভারতীয় আইটেমের পোশাক দিতেই তারা হিমশিম খাচ্ছেন। পাঞ্জাবি নিচে ৭০০ থেকে উপরে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারি মোকামেই বেশি দামে ঈদ মার্র্কেটের কেনাকাটা করতে হয়েছে। আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা ন্যূনতম লাভেই কেনাবেচা করার চেষ্টা করছি। কেনাকাটা শেষে মেয়েরা ছুটছে তাদের রুপচর্চার জন্য বিভিন্ন কস্মেটিক দোকানে।

অপরদিকে, বিভিন্ন প্রতিকুলতা কেটে অনেকেই ঈদের কেনাকাটা করলেও সমস্যায় পড়েছেন নিন্মবিত্ত ও মধ্য আয়ের পরিবারের লোকজন। সুলভ মূল্যে বিভিন্ন দোকানে এসব পোশাক ক্রয় করতে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টেইলারগুলোতে কাপড়ের অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতির কমতি নেই। সব মিলিয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় জমে উঠেছে চিরিরবন্দরের ঈদ বাজার।

আপনার মতামত লিখুন

দিনাজপুর বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ