মঙ্গলবার,১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং,২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:৪৮
আজ ১৩ ডিসেম্বর লালপুর মুক্ত দিবস আনুশকার জন্য আংটি খুঁজতেই তিনমাস গেছে বিরাটের! জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল ৩০ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের মামলায় জেল হাজতে যুবক খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন বাগাতিপাড়ায় জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস পার্বতীপুরে এসিড সহিংসতা প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কৌশলগত সহযোগিতার পর্যায়ে নিতে ঐকমত্য

1 year ago , বিভাগ : জাতীয়,
ch-pm1_38879
মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: বাংলাদেশ ও চীন দেশ দু’টির মধ্যে বিদ্যমান গভীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়াও দু’দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করে। শুক্রবার বিকেলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কথা জানানো হয়েছে। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো.শহীদুল হক একথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গভীর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু এই সহযোগিতাকে উভয় দেশ কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দু’নেতার মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরো গভীর এবং সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি একে একটি নতুন অবয়ব প্রদানে একমত হয়েছেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈঠকে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সফরের ফলে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দু’নেতাই এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের মধ্যে আরো উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় হবে বলেও পররাষ্ট্র সচিব অভিমত ব্যক্ত করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বিষয়ে দু’নেতার আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দু’দেশের সম্পর্ক অনেক পুরনো। তবে, চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরের মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশেষ করে আইসিটি খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরো নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়াও কৃষি সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরো গভীর এবং সম্প্রসারিত হবে। তিনি আরও বলেন, দু’নেতা সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যের আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হন। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলেও তিনি জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি) এবং পাট শিল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, বৈঠকের পরে এ বিষয়েও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চীন সরকার বাংলাদেশকে প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনে সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আইসিটি খাতে চীন বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের ইপ্সিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ত্বরান্বিত হবে।
শহীদুল হক বলেন, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান চমকপ্রদ উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর (শেখ হাসিনার) নেতৃত্ব এই সমৃদ্ধিকে আরো বহুদূর নিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দু’নেতা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও একযোগে কাজ করার বিষয়ে বৈঠকে অঙ্গীকার করেন। তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বৈঠকে উভয় নেতৃবৃন্দ মেরিটাইম সেক্টরকে চিহ্নত করে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর করেন। যে স্মারকের আওতায় উভয় দেশ ব্লু-ইকোনমি নিয়েও কাজ করবে।
আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ