রবিবার,১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:১৬
নেতা নয়, সেবক হতে চাই: শেখ তন্ময় ভোটকক্ষে সাংবাদিকরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না ফখর উদ্দিন মোহাম্মদ স্বপনের শেরে-বাংলা পদক লাভ ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কলমাকান্দা ইউএনও’র অনন্য নজির জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত, থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ প্রধানমন্ত্রীর

গোলের আক্ষেপটা থেকেই গেল

2 months ago , বিভাগ : খেলাধুলা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  কক্সবাজার থেকে প্রতিনিধি : জেমি ডে আগের দিনের মতোই হাসিখুশিভাবে সংবাদ সম্মেলনে ঢুকলেন। খেলোয়াড়রা ছিলেন ক্লান্ত, বিমর্ষ। সবাইকে পুনর্বার জাগার মন্ত্র দিয়ে তবে এসেছেন। ফিলিপাইন ম্যাচ শেষে যেমন বলেছিলেন এদিনও তেমন বললেন, ‘হার নিয়ে আমার কষ্ট আছে, কিন্তু পারফরম্যান্স নিয়ে একেবারে নেই।’

কারণ তিনিই সবচেয়ে কাছে থেকে দেখেছেন দলের সীমাবদ্ধতা কোথায়। কোথায় ফিলিস্তিনিরা এগিয়ে। আর কী-ই বা বাংলাদেশের সামর্থ্য। মাঠে সামর্থ্যের স্ফুরণ না হলে বরং হতাশা জাগে। সেই হতাশা জেমির নেই, ‘ছেলেরা সর্বস্ব দিয়ে লড়েছে। আমাদের মুভমেন্ট, জায়গা তৈরি করা, সুযোগ তৈরি করা—সবই ঠিক ছিল। কিন্তু জেতার জন্য যা প্রয়োজন গোল, সেই গোলের জন্য যা প্রয়োজন ভালো একটি ফাইনাল পাস, ভালো একটি শট, পোস্টের সামনে একটু বাড়তি মুনশিয়ানা—সেসব আমি কোথায় পাব। ক্লাবের হয়ে নিয়মিত যদি তারা এই পরিস্থিতিগুলোর মুখোমুখি হতো, তবেই না আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার যথার্থতা আশা করা যায়।’ যেভাবে বাংলাদেশ হার না মেনে ৯০ মিনিট লড়েছে, গুণে-মানে অনেক এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিনের বিপক্ষে প্রতিটি ডুয়েলে গেছে সাহস করে এবং খেলেছে একেবারে পরিকল্পনা ধরে ধরে তাতেই খুশি জেমি। ফিলিস্তিন কোচও ম্যাচ শেষে প্রশংসা করে গেলেন বাংলাদেশের ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন নিয়ে। না হলে স্বাগতিকদের ছন্নছাড়া করে দেওয়ার সুযোগ কি আর তারা নিতেন না। লাল-সবুজের সীমাবদ্ধতাটা তাঁর চোখেও যেন স্পষ্ট। সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রথম কথাটাই তাই বললেন বাংলাদেশকে নিয়ে, ‘হার্ড লাক।’

নুরেদ্দিনের এই দুঃখ প্রকাশের মধ্যে ভণিতা নেই। যেমন ভণিতা নেই যখন বলছেন, ‘৮ মিনিটে গোল দেওয়ার পর ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশের লড়াইটা ছিল অনেক কঠিন। আমরা পুরো ম্যাচে নিজেদের সেই অবস্থান হারাইনি।’ স্বাগতিকদের পিছিয়ে দেওয়া প্রথম গোল নিয়ে জেমির স্বীকারোক্তি, ‘প্রথম মিনিট দশেক আমরা ছিলাম, ‘স্লো’। সেই সুযোগটাই ওরা নিয়েছে।’ তাতে অবশ্য ফিলিস্তিনের ‘শুরুতেই শেষ করে দেওয়ার’ কৌশলেরই জয়। বাংলাদেশ কোচ যেমন মানেন, ‘বড় ম্যাচে ছোট ছোট ভুল বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।’ মান, স্কিলের পরিমাপ বাদ দিলে লাল-সবুজের শক্তি তো ওই লড়াই, একনিষ্ঠতা, একাগ্রতা। সেখানে একটু ঘাটতিতেই বড় মাসুল দিতে হবে, তাও জানা। ম্যাচ শেষে মুষড়ে পড়া খেলোয়াড়রা কিছুটা হলেও সেই দায়ও হয়তো কাঁধে নিয়েছেন। কষ্টের হলো, সেই দায় মেটাতে পরের পুরো লম্বা সময় জানবাজি রেখেও হারের বোঝা কাঁধে নিয়েই ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। এই ম্যাচ শেষে সামগ্রিক মূল্যায়নেও গেছেন জেমি। তাঁর কথায় ধারাবাহিক উন্নতির সন্তুষ্টি, ‘এশিয়ান গেমস থেকে এই টুর্নামেন্ট পর্যন্ত চিন্তা করলে আমি বলব এখনই সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছি আমরা। এশিয়ান গেমসে মূলত ডিফেন্স ও কাউন্টার অ্যাটাক নিয়ে কাজ হয়েছিল। সাফেও কিছুটা তাই। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে দেখিয়েছি প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও-ও হতে পারি আমরা। আক্রমণে সেই মুভমেন্ট, পরিকল্পনা আমাদের ছিল।’

চূড়ান্ত যে কাজটা—গোল, সেটি নিয়েই এখন তাঁর উঠে পড়ে লাগার কথা। জানালেন দুই মাসে টানা তিনটি টুর্নামেন্ট খেলে ছেলেরা ক্লান্ত, তিনি নিজেও ছুটিতে যাবেন। ফিরে এসে ঘরোয়া ফুটবলে নজর দেবেন। কার পায়ে গোলের সেই সামর্থ্য আছে, সেটি খুঁজে বের করাই হবে মিশন। তবে সে জন্য যে স্থানীয় স্ট্রাইকারদেরও লিগে সমান সুযোগ থাকতে হবে, এই বাস্তবতাটাও তিনি মানেন। গত মৌসুমে তিনজন বিদেশি খেলার সুযোগ ছিল, তাতে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবেও স্থানীয়দের কারো না কারো সুযোগ হয়ে যেত, সামনের লিগে তো চার বিদেশি খেলতে পারবেন একাদশে। স্থানীয় স্ট্রাইকারদের সুযোগ তাই আবারও সংকুচিত হতে যাচ্ছে। বড় দলগুলো সাফল্যের আশায় বিদেশি ছাড়া কারো ওপরই আস্থা রাখতে চান না। জাতীয় দলে স্ট্রাইকার উঠে আসে তাই মাঝারি মানের দলগুলো থেকে। বড় দলে যাঁরা থাকেন বেঞ্চে থেকে থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে পারফরম করাটা তাঁদের জন্য হয়ে যায় পাহাড় সমান চ্যালেঞ্জ। এর পরও আশা কোনো প্রতিভা হয়তো জেমি ঠিকই পেয়ে যাবেন। মেয়েদের দলটাকে যেমন একাডেমির মতো করে গড়ে তোলা হচ্ছে, ছেলেদের ক্ষেত্রে তো তা নয়, প্রতিভাকে লালনের জন্য সত্যিকার একাডেমিও তো নেই বাফুফের। সহসা সংকটের উত্তরণ তাই আশাও করা যায় না। কক্সবাজারের দর্শকরা তবু কাল যে ফুটবল দেখলেন তাতেও খেলোয়াড়দের বাহবা দিতে তাদের বাধলো না। কারণ ফুটবল নিয়ে যা শোনেন তারা, ছন্নছাড়া সেই খেলা তো খেলেনি জেমির দল। পাসিং, মুভমেন্ট, বল কন্ট্রোল উঁচুমানের না হলেও মানসম্মত করার চেষ্টাটা আছে। বিপলুর মতো ব্যক্তিগত ঝলকও আছে কারো পায়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গন মাতাতে তো এমন শত শত বিপলু চাই। সুদূর সে আশাতেই হয়তো থাকলেন দর্শকরা। কক্সবাজারে আবার কবে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফিরবে কে জানে, পাড়ার মাঠের মতো একটা মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলও নিশ্চয় দেখতে চান না তাঁরা।

যেমন ভাবা হয়েছিল এই দর্শকরা খেলা শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে থেকেই স্টেডিয়াম ভরিয়ে ফেলেছিলেন। কিক অফের সময় গ্যালারিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বাইরে তখনো হাজার হাজার মানুষ। বৃষ্টি, আবহাওয়ায় থোড়াই কেয়ার তাঁদের। নিম্নচাপের মাঝেও সৈকত যেমন মুখর, সেই মুখরতা কাল জেলা স্টেডিয়াম ঘিরেও। কিন্তু মাঠে চনমনে সেই ফুটবলটাই হলো না। ফিলিস্তিনিদের শক্তি, স্কিলের কাছে স্বাগতিকদের অবিরাম লড়াই হলো। শেষটা হলো হৃদয় ভার করে।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ