সোমবার,১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৭:৪০
কলাপাড়ায় সমাপনী পরীক্ষায় অনপুস্থিত ২৩৩ মির্জাপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উৎপাদনে পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম ‘নির্বাচন হলেও ১ জানুয়ারি নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা’ ১শ’৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের রেকর্ড জাবিতে তীব্র বাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা শুরু

গুগলের পথে হাঁটবে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো?

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে কিছুদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে প্রতিষ্ঠানে। কর্মীদের সংগঠিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা গুগলের প্রায় পঞ্চাশটি কার্যালয়ের কর্মীরা শুক্রবার ধর্মঘট পালন করেছেন।

ধর্মঘটের একপর্যায়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে অবস্থিত গুগলের প্রধান কার্যালয়ের হাজারো কর্মী পথে নেমে আসেন। ধর্মঘটের সময় তারা কাজ রেখে অফিসের বাইরে আসেন এবং সেখানে নিপীড়নের শিকার হওয়া কর্মীরা সবার সামনে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কর্মী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গুগল কর্মীদের ধর্মঘটের বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ওয়েস্টার্ন স্কুল অব ল’র অধ্যাপক হানাহ ব্রেনার বলেন, ‘প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কবে এমন প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে আমার জানা নেই। এটা একেবারেই নজিরবিহীন একটি আন্দোলন।’

এ আন্দোলনকে সিলিকন ভ্যালির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এখানকার প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠানেই কর্মীদের জন্য রয়েছে অসাধারণ কাজের পরিবেশ যেখানে নিশ্চিত করা হয় অবাধ স্বাধীনতা। আর সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আন্দোলন এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

সম্প্রতি অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফটেও আন্দোলন দেখা গিয়েছে। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্টের সঙ্গে এ দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল কর্মীরা।

গুগলে এ আন্দোলনের প্রভাব বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি গুগলের ‘ড্রাগনফ্লাই’ প্রকল্পের জের ধরে বেশকিছু কর্মকর্তা চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। চীনে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন চালুর জন্য এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে আরো স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য আগস্টে সুন্দর পিচাই বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন গুগলের এক হাজার কর্মী।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করার যে পরিকল্পনা করছিল গুগল, কর্মীদের চাপের মুখে সেখান থেকে সরে আসতে হয়েছে। এজন্য প্রায় চার হাজার কর্মী একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে এ বছরের জুনে সুন্দর পিচাই জানান নতুন করে ইউএস আর্মির সঙ্গে এ চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না।

তবে চলমান এ আন্দোলন পূর্বের সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে। আন্দোলনের খবর জানাতে একটি টুইটার অ্যাকাউন্টও চালু করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে একটি হলো কোনো নারী কর্মী যৌন হয়রানির শিকার হলে তাকে বাধ্যতামূলক যে মধ্যস্থতা করতে হয়, সেটি বন্ধ করা। এর অংশ হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে একজন অভিযোগকারীর মামলা করার অধিকার বাতিল করা হয় এবং গোপন অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়।

এর বাইরে যৌন হয়রানির যত ঘটনা গুগলে ঘটেছে, সব বিষয়ে একটি প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিও রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু গুগলেই নয়, এমন ঘটনা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও কমবেশি হচ্ছে। আর যেকোনো সময় এই আন্দোলন এসব প্রতিষ্ঠানেও শুরু হতে পারে।

গুগল কর্মীদের এ আন্দোলনের শুরু হয়েছিল মূলত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে। প্রতিবেদনে গুগল কর্মীদের যৌন হয়রানির বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অ্যান্ড্রয়েডের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ডি রুবিন ২০১৩ সালে হোটেল কক্ষে একজন নারী সহকর্মীকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। গুগল এ অভিযোগ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল এবং রুবিনকে পদত্যাগেও বাধ্য করেছিল। যদিও এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ঘটনাকে বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন অ্যান্ডি রুবিন।

আপনার মতামত লিখুন

তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ