রবিবার,১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৩৪
নেতা নয়, সেবক হতে চাই: শেখ তন্ময় ভোটকক্ষে সাংবাদিকরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না ফখর উদ্দিন মোহাম্মদ স্বপনের শেরে-বাংলা পদক লাভ ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কলমাকান্দা ইউএনও’র অনন্য নজির জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত, থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ প্রধানমন্ত্রীর

গরু-মহিষের শিং দিয়ে তৈরি বোতাম যাচ্ছে বিদেশে

2 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেকার আছে যেমন সত্য, তেমনি অসংখ্য কাজের সুযোগও আছে। একটু চেষ্টা করে খুঁজে নিলেই হয়। আমাদের চারপাশে এমন কিছু জিনিস আছে যেগুলোকে আমরা ফেলনা বলে মনে করলেও আসলে সেগুলো ফেলনা নয়। বরং সেগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে রূপান্তর করে ব্যবহার উপযোগী করা যায়। যেমন ফেলনা প্লাস্টিক, গরু-মহিষের শিং ইত্যাদি। তেমনি এক উদ্যোগে সাফল্য এসেছে নীলফামারী জেলায়। জেলার সৈয়দপুরে গরু ও মহিষের শিং দিয়ে তৈরি করা বোতাম আজ রফতানি করা হচ্ছে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, চীন ও স্পেনসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে।

এসব বোতাম দামে বেশি হলেও আকর্ষণীয় বাহারি ডিজাইনের আর টেকসই হওয়ায় দেশ-বিদেশে এরই মধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। এ ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছেন বলে জানান অ্যাগ্রো রিসোর্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম। এই বোতাম রফতানি করে তিনি ১৯৯০ ও ১৯৯১ সালে পর পর দুই বার সিআইপি (রফতানি) হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সৈয়দপুর শহরের কুন্দল নামক এলাকায় প্রায় ৬০ শতক জমির ওপর ছোট একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন নজরুল ইসলাম। শুরুতে মাত্র ১০-১২ জন শ্রমিক-কর্মচারী নিয়ে গরু, মহিষের ফেলে দেওয়া হাড় সংগ্রহ করে শুকানোর পর সেগুলো গুঁড়া করার কাজ শুরু করেন। এসব গুঁড়া ফসলি জমিতে দিলে ফসল ভালো হয়— এমনটি জানার পর স্থানীয় কৃষকরা তাদের জমিতে প্রয়োগের ফলে সুফল পায়। পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শহরের বাইপাস সড়কে স্থানান্তর করা হয়। এর পর পরই শুরু হয় বাহারি ডিজাইনের বোতাম তৈরির কাজ।

নজরুল ইসলাম জানান, বোতাম তৈরির পর তিনি দেখেন এক একটি বোতামে খরচ পড়ছে ৩ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত। দেশের বাজারে এসবের মূল্য তেমন একটা মেলে না বলে বিদেশে বাজারজাত করা যায় কি না এ নিয়ে তিনি ভাবতে শুরু করেন। এক সময় সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া ও ঢাকার মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার মালেক ম্যানশনে অফিস নিয়ে বসেন। এভাবে তিনি ১৯৮০ সালের পর থেকে হাড়ের গুঁড়া ও তৈরি করা আকর্ষণীয় বোতামসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি শুরু করেন। ১৯৮০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি লাভের মুখ দেখলেও ভারত থেকে গরু, মহিষ বাংলাদেশে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পর তার লভ্যাংশ নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোটায়। এ পর্যন্ত বোতামের ব্যবসায় প্রায় ৩২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে তিনি জানান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এক শ্রেণির অসাধু পর্যটক রয়েছে যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় উন্নত মানের শিং ও হাড় নিয়ে পাড়ি জমায় ভারতে। তার পর বাংলাদেশের উন্নতমানের পণ্যগুলো নকল করে বাজারজাত করে নিজেদের দেশসহ বিদেশের বিভিন্ন মার্কেটে। তারা শিং ও হাড় পাচারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে বুড়িমারী সীমান্ত পথসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর। এমন বাস্তবতায় আর্কষণীয় পণ্য উৎপাদন করেও কাঁচামালের অভাবে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো আজ প্রায় বন্ধের উপক্রম। সেই সঙ্গে বেকার হয়ে যাচ্ছে দেশের হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। অথচ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশব্যাপী এ শিল্পের প্রসার ঘটানো সম্ভব।সূত্র:বাংলাদেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ