মঙ্গলবার,২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং,১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১০:৫৬
পাঁচ দিনের সফরে সিঙ্গাপুর গেলেন এরশাদ গোল বলের কোনো বিশ্বাস নাই: মোস্তাফিজ মায়ের কোলে চড়ে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় পাশ পাস কোর্স থাকবে না ঢাবির ৭ কলেজে ৩৩ মডেল মাদরাসা সরকারিকরণ দাবি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে লাখো শ্রমিক দারিদ্র্য মুক্ত’ শিক্ষা খাতে আরো বেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে

খ্যাতির সঙ্গে ফর্ম নিয়ে রাশিয়ায় ব্রাজিল

4 months ago , বিভাগ : খেলাধুলা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  নেইমার-কৌতিনহোরা পা রাখতেই বিশ্বকাপের রং লেগে গেল সোচিতে। শহরে এসেছে যে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ব্রাজিল ফুটবলের ফেরিওয়ালার। সঙ্গে করে এনেছে সেই ফর্ম এবং ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন! সবে মিলে সবুজ-সোনালির ঢেউ লেগেছে এবার শীতকালীন অলিম্পিক ভেন্যু সোচিতে।

ভিয়েনায় অস্ট্রিয়া জয়ের পর পরশু রাতেই রাশিয়া পৌঁছেছে ব্রাজিল দল। বিশ্বকাপকালীন মূল ক্যাম্প তাদের সোচিতে, এই শহর থেকেই তারা বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে যাবে ম্যাচ খেলতে। রাতে নেইমারদের দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল দর্শক-সমর্থকরা। ব্রাজিলের পতাকা উড়িয়ে সমর্থকরা জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রবাসেও সেলেসাওদের সঙ্গে তারা আছে। চার বছর আগের ‘মিনেইরাজো’র ব্যথা ভুলে তারা আবার শিরোপাপ্রত্যাশী। সমর্থকদের এই প্রত্যাশার মূলে নেইমার, ইনুজরি সেরেই পুরো ব্রাজিলের স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে ছুটতে শুরু করেছেন এই তরুণ। ইনজুরিতে তিন মাস মাঠের বাইরে, এরপর সেদিন মাঠে ফিরেছেন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বদলি হয়ে। তারকার প্রত্যাবর্তন হলো দুর্দান্ত সুন্দর এক গোলে। গোল দেখে বোঝার উপায় নেই, পিএসজি তারকার পায়ে বড় অপারেশন হয়েছিল। পুরো ফিট না হয়েই ম্যাচ খেলেছেন!

শতভাগ ফিট হওয়ার আগেই যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন গোলের ফর্ম। পরশু ভিয়েনায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করেছেন আরেকটি মন ভরিয়ে দেওয়ার মতো গোল। সুবাদে জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৫ গোল করে এই ফরোয়ার্ড ছুঁয়েছেন আরেক গ্রেট রোমারিওকে। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করা ওই ম্যাচে গোলের শুরুটা করেন জেসুস। মাঝে নেইমার আর শেষটা হয়েছে কৌতিনহোর গোলে। তার মানে তিতের একাদশের তিনি ফরোয়ার্ডই গোলের সুরভি নিয়ে রাশিয়া গেছেন। যাওয়ার আগে ভিয়েনায় ম্যাচ শেষ করে ২৬ বছর বয়সী নেইমার বলেছেন, ‘স্বপ্ন দেখতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে।’ জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের হারে ব্রাজিলের ফুটবল বিভীষিকাময় হয়ে উঠলেও নাকি স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি তিনি, ‘স্বপ্ন দেখা বাদ দেওয়া যাবে না। ব্রাজিলিয়ানরা সব সময় স্বপ্ন দেখবেই। অনেক বড় স্বপ্নের পানে ছুটছি আমরা।’

চার বছর আগে নিজেদের মাঠে সেমিফাইনালে অমন হারের পর ‘গেল গেল’ রব উঠেছিল। ওটা ছিল অঘটন, কিছুই হারিয়ে যায়নি। তবে প্রতিভার কিছু ঘাটতি ছিল বটে। সেবার নেইমারের সঙ্গী অন্য দুই স্ট্রাইকারের মান ঠিক ব্রাজিলসুলভ ছিল না। ফ্রেদ খেলতেন ফ্লুমিনেসে আর হাল্ক জেনিথে। সেখানে তাঁর এখনকার সঙ্গী-সাথিরা খেলেন ইউরোপের সব বড় বড় দলে। ম্যানচেস্টার সিটির জেসুস, লিভারপুলের ফিরমিনো আর বার্সেলোনার কৌতিনহোর সম্মিলনে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইন হয়েছে দুর্দান্ত। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁদের তাল-মিলটা খুব ভালো তৈরি করতে পেরেছেন লিওনার্দো বাচ্চি তিতে। কোরিন্থিয়ানস ছেড়ে ২০১৬ সালের জুনে সেলেসাওদের দায়িত্ব নিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান কোচ খেলায় ফিরিয়েছেন তাদের চিরকালীন সৌন্দর্য। এই কোচের ফুটবল দর্শনে আগে খেলার সৌন্দর্য ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। তাতে কিন্তু ফলে সমস্যা হয়নি, বরং ব্রাজিলের ফুটবল-বৃক্ষ দারুণ ফলবতী রূপ নিয়েছে। বাছাই পর্বের ১২ ম্যাচের ১০টি জিতে তারা সবার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে। সেই ফর্ম অব্যাহত ছিল বিশ্বকাপ প্রাক-প্রস্তুতি ম্যাচেও।

আগের তুলনায় এই দলে তারকা সম্মিলন বেশি, সুবাদে নেইমারনির্ভরতা কমেছে কিছুটা। দলে ম্যাচ উইনার অনেক। কিন্তু নেইমার যে প্রতি ম্যাচেই চমকে দিচ্ছেন তাঁর কোচকে। অস্ট্রিয়ার ম্যাচে তাঁর গোল দেখার পর তিতে বিস্মিত, ‘সে কোথায় গিয়ে থামবে, আমি জানি না। তার সামর্থ্য ও সৃজনশীলতা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। অ্যাটাকিং থার্ডে তার পায়ে বল তুলে দিলে সে অসাধারণ কিছু করবেই।’ ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের পর পরশু অস্ট্রিয়ার ম্যাচেও তিনি করে দেখিয়েছেন। ইনজুরি-ফেরতা নেইমার যেন আরো শাণিত। এরই মধ্যে বুঝি বিশ্বকাপের রঙে রাঙিয়ে ফেলেছেন নিজেকে! কিন্তু ইনজুরির ভয়টা যে থেকেই যাচ্ছে। কলম্বিয়ার সুনিগার ফাউলে তাঁর গত বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। পরশু অস্ট্রিয়ার ম্যাচে তাঁকে ফাউল করা হয়েছে আটটি। অনেকখানি শরীরসর্বস্ব ফুটবল খেলেছে প্রতিপক্ষ। সেই নেইমারের মনে হয়েছে ফুটবলের সঙ্গে মার্শাল আর্ট মিশে গেছে! তবে সৌভাগ্য যে বড় ক্ষতি হয়নি কারো।

অক্ষত ব্রাজিল সোচিতে পৌঁছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা তৈরি করেছে। তাদের ম্যাচ শুরু হবে আগামী রবিবার সুইজারল্যান্ডকে দিয়ে। এরপর ২২ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে কোস্টারিকার। সার্বিয়ার বিপক্ষে ২৭ তারিখ গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে মস্কোতে। প্রতিপক্ষ তিন দল মোটেও সহজ নয়। তিতেও সহজ ভাবছেন না, খেলোয়াড়দের কাছে তাই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, ‘এত দিন আমরা যে ফুটবল খেলেছি, যেভাবে খেলেছি, সেটা খেলে যেতে হবে টুর্নামেন্টে। সাতটি ম্যাচেই ভালো পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রাখলেই হয়।’ গ্রুপ পর্ব শুরুর আগেই সপ্তম ম্যাচে বিশ্বকাপের শেষটা ভেবে রেখেছেন!

সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ