শনিবার,২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:৩৫
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে চাই: রুবেল কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক কালুখালি থানা-মাহেন্দ্রপুর ফাড়িঁ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন জলঢাকায় যুব মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত পার্বতীপুরে আমনের বাম্পার ফলন ॥ কৃষকের মুখে হাসি

খুলনার দাপুটে জয়

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  ৬, ২, ৪, ৬, ০ ও ৬—এক ওভারেই আসে ২৪ রান। আর খুলনা টাইটানস ম্যাচটি জেতে ১৮ রানে।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে চিটাগাং ভাইকিংসের লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারের করা ওভারটিই যে কালকের ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, তা না বললেও চলছে।

সেটি না হয় টার্নিং পয়েন্ট, তাই বলে খুলনার জয় নিশ্চিত হয়নি তাতে। সেটি হয় আবু জায়েদের বোলিংয়ে। বল হাতে ইনিংসের প্রথম ওভারেই যে খুলনার ওই পেসারের শিকার দুই উইকেট! দুই ওপেনার লুক রঙ্কি (২) ও সৌম্য সরকারকে (০) পর পর দুই বলে ফিরিয়ে দিয়ে থামেননি জায়েদ; নিজের পরের ওভারে ফেরান দিলশান মুনাবীরাকে (১০)। তাতে ১৭১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা চিটাগাং ভাইকিংস ২১ রানে হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট। এই হোঁচট সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। খুলনা ম্যাচ জেতে ১৮ রানে।

দিনের শুরুটা কিন্তু পূর্বাভাস দিচ্ছিল ভিন্ন কিছুর। চট্টগ্রাম জেতে টস; ২৯ রানে তুলে নেয় প্রতিপক্ষের তিন উইকেট।

কোণঠাসা হয়ে পড়ে খুলনা। ইনিংস মেরামতের দিকে তাই মনোযোগ দিতে হয় রাইলি রুশো, মাহমুদ উল্লাহকে। কাজটি করেন তাঁরা ভালোভাবেই। কিন্তু ২৬ বলে ২৫ করে রুশো এবং ৩৩ বলে ৪০ করে মাহমুদ আউট হওয়ার পর স্কোরবোর্ডে জয়ের মতো রান কই! মাহমুদ আউট হওয়ার সময় পাঁচ উইকেটে ১০৩ রান খুলনার। ইনিংসের বাকি তখন মোটে ৪.৩ ওভার। দেড় শ রান হওয়াই তো কঠিন তখন।

কিন্তু রান হয়ে যায় ১৭০। সেটি কার্লোস ব্রাথওয়েট ও আরিফুল হকের ব্যাটিং তাণ্ডবে। প্রথমজন না হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা চার ছক্কায় বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক। তাঁর ব্যাটে ঝড় ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কালও ক্রিজে নেমে দ্বিতীয় বলে মারেন ছক্কা। সানজামুল ইসলামের করা ১৭তম ওভার থেকে নেন ১২ রান। এটুকুন হয়তো চিত্রনাট্য মেনেই। কিন্তু আরিফুল যে অমনভাবে তাঁর ব্যাটে ধ্বংসের চিত্রনাট্য লিখবেন, ভাবা যায়নি। লেগ স্পিনার তানভীরের করা ১৮তম ওভারের প্রথম বলে উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে ছক্কা। পরের বলে দুই রান; এরপর পর পর চার ও ছয়। ওভারের পঞ্চম বলে রান হয়নি। তা পুষিয়ে দিতেই যেন শেষ বলটিতে লং অনের ওপর দিয়ে আরেক ছয়। এক ওভারের ২৪ রানে জয়ের রসদ পেয়ে যায় খুলনা।

পরে ব্রাথওয়েট ছয়-চার মেরে আউট হন। ততক্ষণে ১৪ বলে তাঁর হয়ে যায় ৩০ রান। আরিফুল আউট ইনিংসের একেবারে শেষ বলে। ছয় ছক্কায় ২৫ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে। জুটিতে মাত্র ২১ বলে ৫৫ রান। আর শেষ তিন ওভারে আসে ৪৮ রান। আর এখানেই ম্যাচ ফসকে যাওয়ায় আফসোস চিটাগাং ভাইকিংস অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের, ‘শেষ তিন ওভার ভালো না করার মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের। বোলিংয়ে ভালো শুরুর পর এবং দ্রুত উইকেট নেওয়ার পর ওদেরকে দেড় শর বেশি রান করতে দেওয়া উচিত হয়নি। ’

কিন্তু খুলনার রান হয়ে যায় সাত উইকেটে ১৭০ রান। আর চিটাগাং ভাইকিংসের অস্বস্তি আরো বেড়ে যায় ব্যাটিংয়ের শুরুতে। আবু জায়েদের তোপের মুখে পড়ে। প্রথম তিন উইকেটই তুলে নেন ওই পেসার। এর মধ্যে মুনাবীরার শেষ উইকেটে মিড উইকেটে অনেকখানি দৌড়ে যাওয়া রুশোর দুর্দান্ত ক্যাচের উল্লেখ না করলেই নয়। আর এনামুল হকও (১৮) আউট হয়ে গেলে ৩৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে বসে চট্টগ্রাম।

ম্যাচ থেকে তবু পুরোপুরি ছিটকে যায় না তারা। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক মিসবাহর সঙ্গে সিকান্দার রাজার জুটি স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। ১৩ ওভারে ৯৭ রান পর্যন্ত দলকে নিয়ে যান তারা। ছয় উইকেট হাতে নিয়ে শেষ সাত ওভারে ৭৪ রান একেবারে অসম্ভব ছিল না। এ কারণেই ম্যাচ শেষে অমন হাহাকার মিসবাহর কণ্ঠে, ‘আমি ও সিকান্দার যেভাবে খেলছিলাম, স্রেফ খেলাটা শেষ করার ব্যাপার ছিল। আমরা শেষ করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারলে হয়তো জিততাম আমরা। কিন্তু দুজনেই আউট হয়ে গেছি। ’ সিকান্দারকে (২৭ বলে ৩৭) বোল্ড করেন শফিউল ইসলাম। আর জায়েদ চতুর্থ উইকেট নেন মিসবাহকে (৩৭ বলে ৩০) ফিরিয়ে।

চিটাগাং ভাইকিংসকে সাত উইকেটে ১৫২ রানে থামিয়ে দিয়ে ১৮ রানে ম্যাচ জিতে যায় খুলনা টাইটানস। হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পর টানা দুই খেলা জিতল তারা। আর তিন ম্যাচে দ্বিতীয় হার চট্টগ্রামের।

 সূএ: কালের কন্ঠ
আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ