শনিবার,২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:৫৮
‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ শুরু আজ দেশজুড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা পার্বতীপুর প্রগতি সংঘের নির্বাচন সম্পন্ন — সভাপতি আনোয়ারুল – সম্পাদক আমজাদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে চাই: রুবেল কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

কলকাতায় মুসলিম নারীদের ফুটবল ম্যাচ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: সারা বিশ্বের অনেক দেশেই মুসলিম নারীরা ফুটবল খেলেন, বিশ্বকাপসহ নানা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশও নেন। তাই মুসলিম নারীদের ফুটবল খেলাটা নতুন ঘটনা নয়।

কিন্তু যখন স্কুল কলেজের কিছু ছাত্রী আর মুসলিম পরিবারের গৃহবধূ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল দখলের চেষ্টায় মাঠে দৌড়চ্ছেন, বা কর্ণার কিক করছেন, অথবা ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল আটকাচ্ছেন, সেটা কলকাতার রক্ষণশীল মুসলিম এলাকা রাজাবাজারের মানুষের কাছে আলোচনার বিষয়।
শনিবার দুটি মেয়েদের ফুটবল দলের ম্যাচ ছিল ওই এলাকায়।

ওই ফুটবল ম্যাচে দলের গোল রক্ষা করছিলেন তহসিনা বানু। দুবছরের একটি ছেলে রয়েছে তাঁর।

রক্ষণশীল মুসলমান পরিবারের এই গৃহবধূ বলছিলেন, “পাড়ায় ছেলেদের ফুটবল খেলতে দেখলে গায়ে বল লেগে যাওয়ার ভয়ে দূরে সরে যেতাম একটা সময়ে। কিন্তু তারপরে একটা সুযোগ এল আমাদের নিজেদের খেলার। তার আগে কোনও দিন বলে পা ছোঁয়াই নি। প্রথম শটটা মেরে মনে হয়েছিল পরেরটা আরেকটু জোরে মারতে হবে। এই করেই এনার্জি বাড়তে থাকল। আর এখন গোলকীপিং করি, তাই সবসময়েই গায়ে বল লাগছে!”

তহসিনাকে অবশ্য তাঁর মা ছাত্র-ছাত্রীদের সামরিক শিক্ষা দেওয়ার যে ব্যবস্থা ভারতে আছে, সেই ন্যাশানাল ক্যাডেট কোরে পাঠিয়েছিলেন।

“তার পেছনেও একটা কারণ ছিল। আমি খুব মোটা ছিলাম ছোটবেলায়। মা মনে করত এরকম মোটা মেয়ের বিয়ে হবে না। তাই শারীরিক কসরৎ করলে যদি একটু রোগা হই, যাতে বিয়ে হয় ঠিকমতো। মানে এন সি সি করতে যেতে দেওয়াটাও ছিল বিয়ে যাতে হয়, সেইজন্য,” বলছিলেন তহসিনা।

কলেজ ছাত্রী নেহা খাতুন বলছিলেন ছোটবেলায় স্কুলের ছেলে বন্ধুরা ফুটবল খেলত, দেখতে ভাল লাগত। কিন্তু তারা শিক্ষকদের কাছে ফুটবল খেলার অনুমতি চেয়েও পান নি। বলা হয়েছিল, ওটা ছেলেদের খেলা।

আরেক ছাত্রী মেহজবিন নাজ বাড়িতে মিথ্যা কথা বলে খেলতে যেতেন, কিন্তু একদিন বাবার কাছে ধরা পড়ে যান।
তিনি বলেন, “বাড়িতে মিথ্যা কথা বলে যেতাম যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বাচ্চাদের দেখভাল করতে যাচ্ছি বলে। বাবা একদিন ফুটবল খেলতে দেখে ফেলেন। বাড়ি ফিরে প্রচণ্ড বকা খেতে হয়েছিল। খেলাধুলো তো একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুম্বইতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর একটা সম্মেলন আর ফুটবল ম্যাচ ছিল। সেখানেও বাড়িতে মিথ্যা কথা বলেই যেতে হয়েছিল। ফিরে এসে অবশ্য বাবাকে জানিয়েছিলাম যে আমি ম্যাচ খেলেছি, আর হাফপ্যান্ট পড়ে মাঠে নেমেছিলাম। বাবা তারপরে হঠাৎই জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেমন হল ম্যাচ! বুঝলাম বাবা মেনে নিল আমার খেলাটা। ”

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ