বৃহস্পতিবার,২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং,৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:০০

সোনার দাম বাড়ার পর এবার কমলো শাবিপ্রবিতে ‘মেকানিক্যাল ইননোভেশন’ শুরু ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫:৪১ জাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি হবে কবে? জবিতে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার চার দিনের দিবারাত্রির টেস্ট! আরো ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের আরো বিকাশ জরুরি

একটি দূর্ঘটনা আধারে ঢেকে দিল পার্বতীপুরের ৬ কিশোরীর জীবন

Parbatipur Photo
পার্বতীপুর(দিনাজপুর) সংবাদদাতা:
পার্বতীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছেন এক বিধবা মা। আর তাতেই কালো আধারে ঢেকে গেল তার ৬ কিশোরী কন্যার ভবিষ্যৎ জীবন। গত রোববার সন্ধায় ট্রাক চাপা পড়ে পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়কের ফ্যাক্টোরী পাড়া মোড়ে আরজিনা বেগম (৪৫)নামে এক বিধবা নিহত হন। পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর গামী একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ১১-২৮৪০) তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময় তিনি তার একটি গাভী নিয়ে ওই পথে বাড়ী ফিরছিলেন। নিহত আরজিনা মন্মথপুর ইউনিয়নের ছোট হরিপুর মুন্সীপাড়া গ্রামের মৃত মোফাখখারুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল স্ত্রী ও ৬ কিশোরী কন্যাকে রেখে মারা যান পরিবারের একমাত্র উপার্যনম ব্যক্তি মোফাখখারুল ইসলাম। তার মৃতুতে লেখা পড়া ছেড়ে সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হন বড় দুই মেয়ে মুক্তা ও রিক্তা। তারা দুজনেই কাজ নেন ঢাকার দুই গার্মেন্টস ফ্যক্টরীতে। এতে তাদের লেখাপড়ার ইতি ঘটলেও বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী ছোট ৪ বোনের পড়াশোনা ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহের ভার অতিকষ্টে বহন করছিল তারা। বর্তমানে মুক্তা(২৪), রিক্তা (২২) ও মোমিনা (১৮) তিন জনেই এখন বিবাহযোগ্যা। এ ছাড়া ছোট বোন লিপি (১৩) ৮ম, মমতাজ ( ১৫) নবম শ্রেনী ও মুসরাত জাহান ইতি ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ছে। ৩ জনেই মেধাবী ছাত্রী। এমন মুহুর্তে তাদের শেষ অবলম্বন মাকে হারিয়ে তারা ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবাই এখন দিশেহারা।
প্রতিবেশী মেনহাজুল হক জানান, পরিবাররটির ৫শতক বসত ভিটা ছাড়া তাদের কোন আবাদী জমি নেই। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট ৪ বোনকে বাড়ীতে ফেলে রেখে বড় দুই বোন আবার চাকুরী স্থলে ফিরে যাবে, নাকি চাকুরী ছেড়ে ছোট বোনদের সাথে বাড়ীতে অবস্থান করবে, এ নিয়ে উভয় সংকোটে পড়েছে বড় বোন মুক্তা ও রিক্তা। এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তনা দেওয়ার মত আপন আর কেউ নেই।
গতকাল সোমবার বিকেলে তাদের বাড়ীতে গেলে মুক্তা ও রিক্তা কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলেন, বাবা মার ইচ্ছা ছিল ৬ বোনকে শিতি করার। কিন্তু দারিদ্রতার কারনে তারা দ’ুবোন সংসারের হাল ধরেছিল। এখন অবিভাবকহীন হয়ে তারা কিভাবে বোনদের পড়া লেখা ও সংসার চালাবে তা ভেবে পাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ