শুক্রবার,২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং,৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:০২

যমুনা ব্যাংকে উচ্চ বেতনে চাকরি সাতক্ষীরার অ্যাকুরিয়ামের রঙিন মাছ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও ‘শুক্রবার থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেবে সেনাবাহিনী’ ‘মহাসড়ক নেটওয়ার্কে জনসাধারণের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরে এসেছে’ একাধিক পদে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজের সুযোগ গাজীপুরে পিকআপের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত পবিত্র আশুরা ১ অক্টোবর

ঈশ্বরদীতে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজী রাহেনুল ইসলাম মিঠু ॥

download (7)
ঈশ্বরদীর বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে যানবাহনের কাগজপত্র ‘চেকিং’ এর নামে চাঁদাবাজীর মহাৎসবে মেতে উঠেছে হাইওয়ে, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। তাদের এই চাঁদাবাজীর কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন যানবাহনের মালিক ও চালকেরা। সম্প্রতি পাবনা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশে জেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে লাইসেন্স বিহীন যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সেই সুযোগে ঈশ্বরদীর কয়েকটি চিহিৃত স্পটে ‘চেকপোষ্ট’ বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক চাঁদাবাজী করে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর হাইওয়ে,ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ও হাবিলদারদের উপস্থিতিতেই শহরের আলহাজ্ব মোড়, রেলগেট, রেলওয়ে ক্যাশ অফিসের, সিসিডিবি অফিসের, দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড় ও লালনশাহ্ সেতুর সামনে প্রকাশ্যেই বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়।
একটি সুত্র জানায়, নিয়ম না থাকলেও মহসড়কে দাঁড়িয়ে হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র চেকিং করে এবং তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজীতে তারা অতিষ্ঠ। তাদের কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলানো দায় হয়ে পড়েছে। কাগজপত্র চেকিংসহ নানা অজুহাতে তাদের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়। চালকরা জানান, টাকা আদায়ের সময় ট্রাফিক পুলিশ তাদের মামলার ভয় দেখায়। অনেক সময় টাকা দিতে দেরি হলে তাদের মারধরও করা হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতি মঙ্গলবার হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজীর উৎসবের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুনে। কারণ হিসেবে জানা যায়, উত্তোরাঞ্চলের বৃহৎতম পশুহাট ঈশ্বরদীর অরনকোলা পশু হাট। দূর-দুরান্ত থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে পশু আনার সময় উলেখিত পয়েন্টে দাঁড়িয়ে মোটা অংকের টাকা চাঁদা আদায় করা হয় সেই সমস্থ পশু বোঝাই যানবাহন থেকে। শুধু ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাই নয়, এই চাঁদা আদায়ের জন্য কয়েকজন নিদিষ্ট দালাল রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের। তাদেরকে বিভিন্ন সময় ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের সরকারী গাড়ীতে চলাফেরা করতেও দেখা যায়।
এসব বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাফিক পুলিশের একজন সদস্য জানান, সমস্থ বিষয়টি স্যার (সার্জেন্ট) নিজেই দেখভাল করেন। তাই এবিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। তবে অপর একজন সদস্য জানান, এই টাকার ভাগ দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করা হয়। উলেখিত বিষয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

আইন ও আদালত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ