শুক্রবার,২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং,১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৬:৩৫
চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ‘ব্যবহার অনুপযোগী’ দগ্ধদের চিকিৎসার সব খরচ বহন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিহতদের স্মরণে শুক্রবার মসজিদে বিশেষ মোনাজাত জলঢাকায় ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন” ছাতকের রাউলী স্কুলে মাতৃভাষা দিবস পালিত জলঢাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষ ঢল দিনাজপুরে অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’র শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

ইসলামে নাম রাখার গুরুত্ব

1 month ago , বিভাগ : ধর্ম,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ৭. হে জাকারিয়া, আমি (আল্লাহ) তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তার নাম হবে ইয়াহইয়া। এই নামে এর আগে আমি কারো নামকরণ করিনি। [সুরা মারিয়াম, আয়াত : ৭ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : মহান আল্লাহ জাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া কবুল করে বৃদ্ধ বয়সে তাঁকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছেন। ওই সন্তানের নামও মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাঁর নাম ইয়াহইয়া। তাফসিরবিদ ইবনে জারির তাবারি (রহ.) লিখেছেন, ইয়াহইয়া শব্দের অর্থ জীবিত বা জীবনপ্রাপ্ত। এই নামে তাঁর নামকরণ করার কারণ হলো, মহান আল্লাহ তাঁকে মানুষের ঈমান আনার অছিলা বানিয়েছেন। ঈমানের জন্য তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাই তাঁর নাম ইয়াহইয়া। এই নাম তাঁর আগে পৃথিবীতে আর কারো ছিল না।

নাম ব্যক্তি বা বস্তুর চি ডিগ্রি। এটি ব্যক্তি বা বস্তুকে চেনা ও পরখ করার উপায়। যেকোনো নাম নামকরণকৃত বস্তুর নির্দেশ করে। নাম দ্বারা একজন থেকে অন্যজনকে পৃথক করা যায়। তাই ব্যক্তি ও বস্তুর নাম রাখার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সব ধর্ম, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ঐক্য রয়েছে। সাহিত্যকর্ম ও লেখালেখিতে নামকরণ আলাদা তাৎপর্য বহন করে। ক্যাভেন্ডিস বলেছেন, ‘একটি সুন্দর শিরোনাম অনেক ধন-সম্পদের চেয়েও উত্তম।’ সঠিক নামকরণের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে লেখা, গল্প বা উপন্যাসের মূল সুর। তাই বলা হয়ে থাকে, ‘একটি রচনা যদি হয় পুষ্প, তাহলে তার শিরোনাম হবে সেই পুষ্পের কুঁড়িস্বরূপ।’

নাম রাখার ব্যাপারে ইসলাম একটু বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুর জন্মের সপ্তম দিন নবজাতকের উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি : ২/১১০)

সুন্দর নাম রাখার তাগিদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নাম ও পিতার নামে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩০০)।

তবে ইসলামে নাম রাখার কয়েকটি স্তর আছে। এক. ‘আবদুল্লাহ’ ও ‘আবদুর রহমান’—এ দুটি নাম রাখা সর্বোত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৯৮)।

দুই. মহান আল্লাহর উবুদিয়্যাত তথা দাসত্বের অর্থজ্ঞাপক নাম রাখা উত্তম। যেমন—আবদুল আজিজ (আজিজ তথা মহাপরাক্রমশালীর বান্দা), আবদুর রহিম (পরম করুণাময়ের বান্দা), আবদুল মালিক (রাজাধিরাজের বান্দা) ইত্যাদি নামে আল্লাহর দাসত্বের অর্থ রয়েছে। এগুলো রাখা উত্তম। তবে বর্তমানে এমন নাম রাখা হলে বেশির ভাগ মানুষ পুরো নাম ব্যবহার করে না। আবদুল আজিজকে আজিজ নামেই ডাকা হয়। এতে অর্থ বিকৃত হয়ে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ জাতীয় নাম না রাখাই ভালো। (মা’আরেফুল কোরআন, ভূমিকা দ্রষ্টব্য)।

তিন. নবী-রাসুলদের নামে নাম রাখা উত্তম। প্রিয় নবী (সা.)-এর দুটি নাম রয়েছে : মুহাম্মাদ ও আহমাদ। এ ছাড়া অন্য নবীদের নাম রাখা যায়। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপনাম ‘আবুল কাসেম’ অন্যদের জন্য রাখা নিষিদ্ধ। (বুখারি, হাদিস : ৫৮৩৩)।

চার. নেককার ও ঈমানদার মনীষীদের নামে নাম রাখা উত্তম। সাহাবি, তাবেইন ও তাবে তাবেইনসহ মুসলিম মনীষীদের নামে নাম রাখা যায়।

পাঁচ. এগুলো ছাড়া ইসলাম সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখার অনুমতি দিয়েছে।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ