শুক্রবার,২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:৫৯

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার সাড়ে ১৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বাগাতিপাড়ার দরিদ্র মেধাবী সজনীকে ল্যাপটপ দিলেন ইউএনও পাঁচবিবিতে নগত অর্থ বিতরণ সৈয়দপুরে সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে খুচরা পয়সা সংগঠন ইটভাটার কালোধোঁয়ায় ফসলের তিপূরণের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন লালমনিরহাটে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার বায়তুল মুকাররমে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সময়সূচি

ইবরাহীম (আ.) কে নিয়ে জ ই মামুন ও অমি রহমান পিয়ালের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবী হেফাজত যুগ্নমহাসচিবের

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাবান নবী হযরত ইবরাহীম (আ.)কে নিয়ে এটিএন বাংলার চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জ ই মামুন ও শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত অমি রহমান পিয়ালের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী। ১৮ জুন রবিবার প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটিএন বাংলার চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জ ই মামুন ফেইসবুকের কমেন্টে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, “হযরত ইব্রাহিম কি করে মোছলমান (মুসলিম) জাতির পিতা হন, তিনি তো অমুসলিম!”

মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী বলেন, জ ই মামুন ইচ্ছে করেই শব্দটি লিখলেন “মোছলমান”! এই শব্দটি তিনি ব্যাঙ্গার্থেই ব্যবহার করেছেন। তাই এটা শুধু নির্দোষ প্রশ্ন নয়, মুসলমান স¤প্রদায়ের প্রতি তাচ্ছিল্য ও তার আচরিত ধর্মের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ।
তিনি বলেন, জ ই মামুনের এই কমেন্টের পরে শাহাবগী অমি পিয়াল বেশ মজা পেয়ে এটা নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার ইচ্ছা পোষন করেন এবং অবশেষে একটি নাতিদীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন রাখলেন- “যদি ইব্রাহীম (আ.) মানব জাতির পিতা হন, তাইলে হযরত আদম (আ.) কি? তারপর এবং ইব্রাহিমের আগের নবীদের স্ট্যাটাস কি?
তিনি যদি মুসলিম স¤প্রদায়ের (মুসলমান কোনো জাতি না) পিতা হন, তাইলে ইসলাম অবতরণের এতো আগে তিনি পিতা হইলেন ক্যামনে? তারে তো কোনো কিতাব দিয়া রাসূলও বানানো হয় নাই আল্লাহর তরফে। হইলেনই যখন তারপর আল্লাহ আহলে কিতাব কম দেন নাই। মুসলমানরা তাদের স্বজাতি না মাইনা খারিজ কইরা কতলের মিশন নিলো ক্যান?
আর যদি তিনি আরব জাতির পিতা হন তাইলে আমরা বাঙালি জাতি তারে পিতা মানুম ক্যান! আমরা তো আরব না”।
মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী বলেন, জ ই মামুন ও শাহবাগী অমি পিয়াল, এই দুইজন অজ্ঞতা বশত এইকথাগুলো বলেনি, বরং জেনেশুনেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের আঘাত করার জন্য চরম বেয়াদবি ও ফাসেকি করেছে।
তিনি বলেন, মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আ.)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তাআলা স্পষ্টভাবে তা জানিয়ে দিয়েছেন। এরপরও যারা হযরত ইবরাহীম (আ.)কে মুসলিম জাতির পিতা অমান্য করে, তারা তো আল্লাহ্ তাআলার বাণী অর্থাৎ- কুরআনকে অস্বীকার করে। আর যারা কুরআনকে অস্বীকার করে, তারা নি.সন্দেহে কাফির। আর কাফিরদের চিরস্থায়ী বাসস্থান হবে জাহান্নাম। পবিত্র কুরআনের আয়াত (অনুবাদ)- “তোমরা তোমাদের পিতা ইবরাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই (আল্লাহ) তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কুরআনেও, যাতে রাসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবম-লির জন্যে। সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। (সূরা আল-হাজ্জ- ৭৮ আয়াত)। পবিত্র কুরআনের অপর আয়াতে ঘোষণা এসেছে, “ইবরাহীম ইহুদী ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলমান এবং তিনি মুশরিক ছিলেন না। (আল-ইমরান- ৬৭ আয়াত)।
হযরত ইবরাহীম কেন মুসলিন জাতির পিতা- এর উত্তরে মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী বলেন, হযরত ইবরাহীমের একত্ববাদের যারা অনুসারি তাঁরা ‘মিল্লাতে ইবরাহীম’। এই মিল্লাতে ইবরাহীম হচ্ছে, একত্ববাদের মাধ্যমে মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস। সেই ঐক্যের মিল্লাতে হযরত ইবরাহীম (আ.)এর স্মরণে আনবার জন্যই হযরত ইবরাহীম (আ.)কে স্মরণ ইসলামে বিশ্বাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক। আল্লাহর আদেশ পালন করতে গিয়ে হযরত ইবরাহীম নিজের পুত্র সন্তানকে কোরবানী করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার স্মরণে কোরবানী দেওয়াকে ইসলামে ওয়াজিব করা হয়েছে। তাই এই দিন হযরত ইবরাহীম আলাইহিমুস সালামকে স্মরণ করবার দিন। মানুষের বৈচিত্র ও বিভিন্নতার সত্ত্বেও একদিন রক্ত, গোত্র, আভিজাত্য, গোষ্ঠি, ভূখ-, নৃতাত্ত্বিক কিম্বা ভাষা বা সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদ অতিক্রম করে দুনিয়ার সকল মানুষ একত্ববাদের পতাকাতলে একদিন ঐক্যবদ্ধ হবে- মুসলমানগণ এই স্বপ্ন দেখেছিল বলে তার আবির্ভাব ও বিকাশ ঘটেছিল দ্রুত। হযরত ইবরাহীম (আ.) সেই স্বপ্নের দ্রষ্টা। শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) স্বপ্ন দেখেছিলেন, হযরত ইবরাহীম (আ.)এর মধ্য দিয়ে সেই সময়ের সকল একত্ববাদী ধর্ম ঐক্যবদ্ধ হবে। তাই মুসলমানরা জেরুজালেমের মসজিদুল আকসার দিক থেকে হযরত ইবরাহীমের স্মৃতি বিজড়িত মক্কার বায়তুল্লাহর দিকে মহান আল্লাহর নির্দেশে ক্বেবলা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। হযরত ইবরাহীমের স্মরণ এ কারণেও গুরুত্তপূর্ণ।
হেফাজত যুগ্মমহাসচিব মাওলানা রুহী বলেন, ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাকে এই দুই ফাসেক প্রকাশ্যে অবমাননা করেছে। এই দুইজনের বক্তব্য পবিত্র কুরআনের অবমাননার শামিল। কারণ দুইজনেরই প্রকারান্তরে পবিত্র কুরআনের আয়াত নিয়ে এই ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ ক্ষমার অযোগ্য। তাদের এই অপরাধের কঠোর বিচার হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সুইস দুতাবাসের কাছে জানতে চাই, ইসলামবিরোধী লেখা লেখার জন্যই কি অমি পিয়ালকে রাজনৈতিক এসাইলাম দিয়ে সুইস জনগণের করের টাকায় প্রতিপালন করা হচ্ছে? আমরা এটিএন বাংলার কাছেও জানতে চাই, তারা কি ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য এসব সাংবাদিকদের চাকরি দিয়ে রেখেছে? এটিএন বাংলা কাছে জানতে চাই, তারা কি জ ই মামুনের বক্তব্যের দায় নেবে? তাদেরকে এটা স্পষ্ট করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ