শুক্রবার,২৮শে জুলাই, ২০১৭ ইং,১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৫:০৩

নিয়োগ দিচ্ছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর গাজীপুরে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চালক নিহত ভোলায় আলিম্পিক ডে পালিত পার্বতীপুরে রাইস কুকারের ফুটন্ত পানি শরীরে পড়ে শিশুর মৃত্যু গাইবান্ধায় এলজিএসপিতে শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিলুল্যাহ শাকিবের নবাবি নিয়ে মুখ খুললেন শুভশ্রী সেরা বাঙালি পুরস্কার নিতে কলকাতা যাচ্ছেন মাশরাফি

ইছমিতিতে দু’দেশের মিলন মেলার তরী না ভাসলেও সীমারেখায় বিজয়া আনন্দের ভেলা

1111

মীর খায়রুল আলম: “তুমি এসেছো মা ঘোড়ায় চড়ে, চলে গেলে হাজারো ভক্তের অশ্র“সিক্ত চোখে কাঁদিয়ে” চলেগেলে দেবী দূর্গা। বাংলাদেশ-ভারত দুদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজয়া দশমির বিসর্জন মিলন মেলা নানান জটিলতায় ৪ বারের মত এবারও বন্ধ হল। ভাসলো না দুই বাংলার মিলন মেলার ভেলা। যার যার সীমারেখার মধ্যে কঠোর নজরদারীতে সম্পন্ন হল বিজয়া বিসর্জন মেলা। দেশের দণিাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা বিসর্জনাস্থল দেবহাটার ইছামতি নদী। দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। এই বিসর্জন কে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় মিলন মেলা। তাছাড়া প্রতি বছরের এই দিনে ইছামতি নদীর তীরে আন্তর্জাতিক সীমারেখাসহ দ্বিধা-দ্বন্দ ভুলে মিলন মেলায় মিলিত হয় পাশাপাশি অবস্থিত প্রতিবেশী দু’দেশের হাজার হাজার মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে এবং যাতে করে উভয় দেশের মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে পারাপারসহ সন্ত্রাসী, পলাতক আসামী, দৃষ্কৃতিকারীরা যাতে করে অবৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে না যেতে পারে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। তারই পরিপেেিত দু’দেশের জাতীয় ও সীমান্তরী বাহিনীর কঠিন সিদ্ধান্তে ৪ বারের মত বন্ধ হল ঐতিহ্যবাহী এই মিলন মেলা। দিনটিতে নিরাপত্তার ল্েয বাংলাদেশ-ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণী ইছামতি নদীর বিস্তৃত জিরো পয়েন্ট এলাকা জুড়ে নৌযানে টহল জোরদার করে বাংলাদেশ সীমান্তরী বাহিনী (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যরা। তাছাড়া দায়িত্বরত অবস্থায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ, প্রবেশ পথ সহ সকল সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্বে রাখা হয় ট্রাফিক পুলিশ। দিনটিতে বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেবহাটাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের পূজা মন্ডপ থেকে দেবী দূর্গার প্রতিমা নিয়ে ইছামতি নদীর এই বিসর্জনাস্থলে আসতে থাকে ভক্তরা। পরে সন্ধ্যার আগ মূহুর্তে অশ্রুসিক্ত চোখে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গাকে বিদায় জানায় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুুষ। তবে সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হলেও কয়েক বছর মিলন মেলা না হওয়ায় প্রত্যেকের মাঝে ছিলো হতাশার চিহ্ন। ৪য় বারের ন্যায় সাতীরার দেবহাটা সীমান্তের ইছামতি নদীতে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে ভাসেনি দু’বাংলার মিলন মেলার তরী। গত কয়েক বছরের ন্যায় এবছরও সকাল থেকে ইছামতি নদীর পাড়ে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হলেও প্রতিমা বহনকারী নৌকা ছাড়া নদীতে নৌকা ভাসাতে পারেনি কেউই। ফলে অনেকটা হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন বাংলার মানুষ। তাছাড়া বাংলাদেশে সরকারের সিধান্ত অনুযায়ী মিলন মেলা না হওয়ার কারন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবছর জেলা পরিষদের আয়োজনে বাংলাদেশ সীমান্তে ব্যাপক আয়োজন করা হয়। বিগত বছরগুলোয় নানান জটিলতায় আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান দেবহাটা উপজেলা প্রশাসন। এবিষয়ে স্থানীয়রা বলেন দেশ বিভাগের অনেক আগে থেকেই সীমান্তের ইছামতি নদীর উভয় তীরে দূর্গা পূজার শেষ দিন বিজয়া দশমীতে মেলা বসে আসছে। দেশ বিভাগের পরও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি সীমান্তের সীমারেখা। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে এ মেলা কখনও বন্ধ হয়নি। সারা বছর ধরে শুধু ইছামতি নদীর পাড়ের মানুষ নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ দিনটির জন্যে থাকে অপোয়। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিজর্সন উপলে ইছামতির উভয় পাড়ে বসে নানারকমের দোকান। আত্বীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাাত ছাড়াও এখানে আসা মানুষ উভয়ের মধ্যে ভাব বিনিময় শেষে সন্ধ্যার পরে ফিরে যায় যে যার দেশে, যে যার ঘরে। বাঙ্গালীর জাতীর সর্বজনীন উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা বিজয়া দশমী প্রতিমা বিসর্জন ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে সকলের মাঝ থেকে। আগামী প্রজন্ম হয়ত আর উপভোগ করতে পারবে না উৎসব মূখর এই আনন্দঘন দিনটি। দু-দেশের জটিলতায় হয়ত একদিন সকলের মাঝ থেকে হারিয়ে যাবে দিনটি।

আপনার মতামত লিখুন

খুলনা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ