মঙ্গলবার,২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:১৮
বাগেরহাটে ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার আম্পায়ারকে গালি দিয়ে সাকিবের শাস্তি ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার টু’তে টাইগার শ্রফ জলপাইয়ের গুণাগুণ সৈয়দপুরে তারেক রহমানের জন্মদিন পালিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় রিলিজ স্লিপের ভর্তির আবেদন ২২ নভেম্বর শুরু সব দায় পরিচালকের : এফ আই মানিক

‘আসেমে অংশগ্রহণ ভাবমূর্তি আরো সুসংহত করেছে’

pm-press-con1_21574মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেক্স: এবারের আসেম সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামগ্রিকভাবে এবারের আসেম সম্মেলনে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল, দৃশ্যমান এবং সুসংহত করেছে। আজ রবিবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। অতি সম্প্রতি তার উলানবাটোর সফর এবং আসেম সম্মেলন নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ১১ তম এশিয়া-ইউরোপ সম্মেলন (আসেম) ১৫ ও ১৬ জুলাই মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো, শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের সম্মেলনে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা শুধু প্রশংসিতই হয়নি, বাংলাদেশকে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিশেষভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, আসেম সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তিনি বিশ্ব নেতাদের জানিয়েছেন।
সম্মেলন চলাকালিন ফ্রান্সের নিসে সন্ত্রাসী হামলা এবং তুরষ্কে সেনা অভ্যুত্থান এবং সম্প্রতিককালে বিশ্ব প্রেক্ষপটে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্বনেতৃবৃন্দ সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নিন্দা এবং প্রতিবাদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই অভিন্ন ইস্যু মোকাবেলায় একযোগে কাজ করে যাবার ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। সন্ত্রাসের উৎস খুঁজে বের করার বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তাঁর আহবানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি- যেন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসে মদতদাতা, অর্থদাতা ও প্রশিক্ষণদাতাদের খুঁজে বের করা হয়। তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সব সময়ই অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সে সময় বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন বলেও জানান।
প্রধানমন্ত্রী আসেম সম্মেলনের সাইড লাইনে জার্মানীর চ্যান্সেলর অ্যানজেলা মরকল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ’সহ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেন্টিলোনি সিলভেরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীও পৃথক বেশ কিছু গুরত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
এবারের দু’দিনব্যাপী আসেম সম্মেলনে ১১টি দেশের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩টি দেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৬ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা ইউরোপিয়ান কাউন্সিল (ইসি) ও ইউরোপিয়ান কমিশনের সভাপতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের মহাসচিবগণ অংশ নেন। প্রসঙ্গ অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্ব গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্ক গভীরতর করার উদ্দেশ্যে এশিয়া ও ইউরোপের ৫১টি দেশ ও দুটি আঞ্চলিক সংস্থার ফোরাম সমন্বয়ে আসেম গঠিত হয়। আর ২০১২ সালে আসেম-এ যোগ দেয় বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ