শনিবার,২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১১:৫৫
আজ দেশজুড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা পার্বতীপুর প্রগতি সংঘের নির্বাচন সম্পন্ন — সভাপতি আনোয়ারুল – সম্পাদক আমজাদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে চাই: রুবেল কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক কালুখালি থানা-মাহেন্দ্রপুর ফাড়িঁ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন

আশাশুনিতে কুঁচিয়া চাষের উজ্জল সম্ভাবনা সৃষ্টি

file (7)                          মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:    আশাশুনি উপজেলায় কুঁচিয়া চাষের প্রতি চাষীদের সম্পৃক্ততা বেড়ে চলেছে। অনেক চাষী কুঁচিয়া চাষের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করায় প্রতিবেশী চাষীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারনেই অন্যান্য চাষীরা কুঁচিয়া চাষের জন্য পুকুর (হাপা) প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। চাষীদের আগ্রহ ও সফলতা দেখে মনে হচ্ছে আশাশুনিতে কুঁচিয়া চাষ ধীরে ধীরে ব্যাপক সম্প্রসারিত হতে যাচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি ও কাঁকড়ার পাশাপাশি কুঁচিয়া চাষ জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা  উন্নয়ন এর মাধ্যমে জানা যায় যে, আশাশুনি ও শোভনালী শাখায় পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউ-েশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহযোগীতায় Learning and Innovation Found to Test new Ideas (LIFT) কর্মসূচির আওতায় প্রাকৃতিক উপায়ে কুচিয়ার বংশবিস্তারের সুযোগ এবং কুচিয়া চাষের মাধ্যমে আয়বর্ধণমূলক কর্মকান্ড সৃষ্টি, কুঁচিয়ার বংশ বিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্থিক সহযোগীতাসহ দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে থাকে।
বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন এ পর্যন্ত ৫০ জন চাষীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে এবং ৪০ জন চাষীকে কুঁচিয়া চাষে সম্পৃক্ত করেছে। এছাড়া কুঁচিয়া চাষের পরামর্শ প্রদান, কুঁচিয়ার অভয়ারণ্য তৈরিতে শোভনালী ইউনিয়নে ০২টি পুকুর প্রস্তুতির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কুঁচিয়া চাষের সম্ভাবনা এবং কুঁচিয়ার বাজার মূল্য অধিক বিষয়টি চাষীরা জানতে পেরে অনেকেই কুঁচিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অত্র এলাকার উজিরপুর বাজার, আশাশুনি বাজার, হাড়িভাঙ্গা সেট এবং মহেশ্বরকাটিতে কুঁচিয়ার বড় বাজার রয়েছে।
এ প্রকল্পের কার্যক্রম হতে জানা যায় মাত্র ১০০ বর্গফুট আয়তনের একটি গর্তে পরিকল্পিত ভাবে ৫-৬ মাস কুঁচিয়া চাষ করে প্রায় ১২০-১৫০ কেজি কুঁচিয়া উৎপাদন করা যায়। যার বাজার মূল্য ৩০,০০০/= টাকার উর্ধ্বে। ডিচের নিচে ও চারপাশে পাটা নেট ও পলিথিন বসিয়ে একটি ডিচ তৈরি করে কুঁচিয়া চাষ করতে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। খরচ বাদে লাভ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। লাভজনক এ কুঁচিয়া চাষকে জনপ্রিয় করা সম্ভব হলে গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও  উন্নয়ন সংস্থা।
উন্নয়ন সংস্থা সূত্রে আরও জানাযায়, চীন, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে কুঁচিয়া রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ সকল দেশের ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক কুঁচিয়ার যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হলে কুঁচিয়া দেশের অন্যতম রপ্তানী পণ্যে পরিণত হবে। বাংলাদেশে দু’ধরনের কুঁচিয়া পাওয়া যায়। মিষ্টি পানির কুঁচিয়া ও লবণ পানির কুঁচিয়া।
মিষ্টি পানির কুঁচিয়ার চাহিদা বেশী তাই, এর দামও বেশী। তবে বর্তমানে লবণ পানির কুঁচিয়ার চাহিদা ও দাম কোনটাই কম নয়। লবণ পানির কুঁচিয়া চাষের জন্য লবনাক্ত এলাকাগুলো বেশ অনুকূলে। খাল, বিল, বাড়ির পাশের ডোবাতেও ১-২ শতাংশ স্থানে কুঁচিয়া চাষ করে আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায়। ্আনন্দের খবর হলো, কুঁচিয়া চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য অনেক চাষীই কুঁচিয়ার খামার গুলো পরিদর্শণ করছে।
এ সম্পর্কে বলাবাড়িয়া গ্রমের বাসিন্দা কুঁচিয়া খামারি সুশান্ত মন্ডল বলেন, কুঁচিয়া চাষ বিষয়ে আমার কোন ধারনা ছিল না। উন্নয়ন সংস্থা হতে প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি বাড়ির পাশে প্রথমতঃ একটি ছোট খামার গড়ে তোলেন এবং সেখানে কুঁচিয়া মজুদ করে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা করে আসছে। বর্তমানে ডিচটি দেখে মনে হয় সেখানে ৫০ কেজির উর্ধে কুঁচিয়া রয়েছে। আশাশুনির বলাবাড়িয়া গ্রামের কিংকর সরকার, নিশিত সরকার, কমলাপুর গ্রামের বৃন্দাবন এবং খাসেরাবাদ গ্রামের ভবতোষ সকলে কুঁচিয়া চাষের সহিত যুক্ত রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ তারিকুর রহমান বলেন, ভৌগলিক ও জলবায়ুর পরিবর্তনে প্রাকৃতিক ভারসাম্যতাহীনতা, অতিরিক্ত খরা, জলাভুমি ভরাট, অপরিকল্পিত স্লুইস গেইট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, জলাভূমি কৃষিতে রূপান্তর, নিষিদ্ধ ঘোষিত ও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, অতিআহরণ ইত্যাদি কুচিয়ার আবাসস্থল নষ্টের অন্যতম কারণ। এলক্ষ্যে জলাশয় ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ঘটিয়ে প্রাকৃতিকভাবে কুচিয়ার বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কুচিয়ার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে দেশের অন্যতম রপ্তানী পণ্য হিসেবে কুঁচিয়া বিবেচিত হবে। এছাড়া  কুঁচিয়ার রেণু উৎপাদন হ্যাচারি তৈরি হলে কুঁচিয়ার পোনা নিশ্চিত হবে। তখন এ কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।
এ প্রসঙ্গে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, কুঁচিয়া চাষ কার্যক্রমটি এ অঞ্চলে একেবারেই নতুন। উন্নয়ন সংস্থা এ বছর আশাশুনি সদর ইউনিয়ন ও শোভনালী ইউনিয়নে কয়েকটি প্রদর্শনী খামার স্থাপন করে পরীক্ষা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কুঁচিয়ার বৃদ্ধি লাভ দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন দেশে কুঁচিয়া চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।   এবিনিউজ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ