বুধবার-২৪শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং-১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:০০
চন্দনারানীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পূঁজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ চন্দ্র সাহা গাইবান্ধায় মন্দির ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গাইবান্ধায় অটোবাইকের ধাক্কায় আহত যুবকের মৃত্যু কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঘেঁষে তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন গ্রামীণ জনপদে সুইমিং পুল, রিসোর্ট- বাঘ, হরিন, হাতি, পাখির স্ট্যাচুসহ বিভিন্ন রাইড ও খেলনা বিনোদন প্রেমীদের জন্য ফারিহা গার্ডেন মনির হোসেন.বরিশাল ॥ দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক পথে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন চার মুক্তিযোদ্ধা বরিশালে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের

আদর্শচ্যুত নতুন প্রজন্ম পরিবারের দায়

3 weeks ago , বিভাগ : ধর্ম,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ৫৯. তাদের পর এলো এমন উত্তরসূরিরা, যারা নামাজ নষ্ট করে দিল এবং লালসাপরায়ণ হলো। সুতরাং অচিরেই তারা কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৫৯ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : পৃথিবীর সূচনা থেকেই এই ধারা চলে আসছে যে পরবর্তী প্রজন্ম পূর্বসূরিদের আদর্শ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা থেকে দূরে সরে যায়। নবীদের রেখে যাওয়া সমাজব্যবস্থায়ও এই চিত্র দেখা যায়। উত্তরসূরিরা ইবাদতবিমুখ হয়ে ওঠে। নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের পরিবর্তে বৈষয়িক উন্নতি, সুখ ভোগ তাদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। এর কারণ কী? অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের অপরাধপ্রবণ হওয়ার ক্ষেত্রে মা-বাবার ভূমিকা থাকে! যেমন—

ক. পলাতক মা-বাবা। যাঁরা নিজের স্বার্থ, সম্পর্ক ও ক্ষোভ থেকে সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না করে পলাতক হয়েছেন। সন্তান তাঁদের স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত থাকে। খ. পাপে সহায়ক মা-বাবা। তাঁরা সন্তানকে পাপের মধ্যে রেখে বড় করেন। কখনো বা সন্তানের সহায়তায় পাপ করেন। গ. পাপাচারে নমনীয় মা-বাবা। তাঁরা সন্তানের অপরাধস্পৃহায় উৎসাহ দেন, নমনীয় থাকেন। ঘ. অসচ্চরিত্র মা-বাবা। তাঁরা নির্বিচারে সন্তানের সামনেই নানা অসামাজিক কাজ করেন। ঙ. অক্ষম মা-বাবা। তাঁরা সন্তানকে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানে অমনোযোগী বা অপারগ।

সন্দেহ নেই যে এমন মা-বাবার সন্তান এবং তাঁদের মাধ্যমে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

আধুনিককালে শহরগুলোতে দেখা যায়, মা-বাবা উভয়ে ঘরের বাইরে কাজ করছেন। ফলে সন্তান তাঁদের উপযুক্ত স্নেহ-শাসন থেকে বঞ্চিত হয়। এতে সন্তানের মধ্যে এক ধরনের আত্মকেন্দ্রিকতা কাজ করে। আবার দেখা যায়, স্বজনের মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদের ফলে নতুন প্রজন্মের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। জীবন তখন অর্থহীন মনে হয়। সেসব সন্তান সমাজবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত হয়।

পরিবার হলো সমাজের প্রাণকেন্দ্র। সামাজিক সম্পর্ক সৃষ্টি ও বৃদ্ধি হয় পরিবারকে কেন্দ্র করে। মানবজাতির প্রথম ঐক্যের ভিত্তি হলো পরিবার। নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার প্রধান দায়িত্ব পরিবারের। তাই অনেকেই মনে করে, আদর্শচ্যুত প্রজন্ম তৈরি হওয়ার পেছনে পরিবারের দায় আছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরই মা-বাবার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এক ব্যক্তি উমর (রা.)-এর কাছে নিজ সন্তানের ব্যাপারে নালিশ করল যে ছেলে কথা শোনে না। উমর (রা.) ছেলেটিকে ডেকে সাবধান করেন। ছেলেটি বিনয়ের সঙ্গে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! বাবার ওপর ছেলের কি কোনো হক নেই? তিনি বলেন, কেন থাকবে না? সে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! ওই হকগুলো কী? তিনি বলেন, বাবা বিয়ে করার সময় সন্তানদের জন্য ভালো মা নির্বাচন করা, সন্তান হলে তার জন্য সুন্দর নাম রাখা এবং তাকে পবিত্র কোরআন তথা উত্তম শিক্ষা দেওয়া। (ইসলাম ও তরবিয়তে আওলাদ, পৃষ্ঠা. ১৪২)

অতএব সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি পদক্ষেপে থাকতে হবে দায়বদ্ধতার ছাপ।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ