শনিবার,২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং,৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১১:৪৯

আকর্ষণীয় পদে ইসলামী ব্যাংকে কাজের সুযোগ ইবির চতুর্থ সমাবর্তন জানুয়ারিতে শাবিপ্রবিতে গবেষণা খাতে ২৫ লাখ টাকা দিল পূবালী ব্যাংক পাকিস্তানি অভিনেত্রীর প্রেমে পড়েছেন রণবীর ‘গোলমাল অ্যাগেইনে’র ট্রেইলার প্রকাশ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অনন্ত জলিলের দ্বারস্থ এফআই মানিক পাকিস্তানের এনবিপি ব্যাংকের দুর্নীতিতে কয়েকজন বাংলাদেশি জড়িত?

আতংকে গভর্বতী মা ও শিশুরাশ্যামনগরের আটুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল অবস্থা,

dsc00455&&&&&&&&&&&&&&&&&_22875                         মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  সুন্দরবন উপকুলীয় সাতক্ষীরার দুরবর্তী শ্যামনগর উপজেলাটি দেশের একেবারই শেষ প্রান্তে অবস্থিত। ২০০৯ সালের ভয়াবহ আইলা সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল এই এলাকা থেকে। সেই থেকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সকল অবকাঠামো একেবারই ভেঙ্গে পড়ে। সরকারী ও বে-সরকারী বিভিন্ন সংস্থার ব্যাপক উন্নয়নমুখী কর্মকান্ডের কারনে এ উপজেলার প্রায় সব কিছুই আগের অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে।  সে ক্ষেত্রে স্বাথ্যসেবা ও দ্রুতগতিতে পৌছে দেয়া হচ্ছে মানুষের দৌড়গোড়ায় । গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করনের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর দ্বায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নিয়েছেন।বিশেষ করে প্রত্যান্ত অন্ঞলের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর ভার। এ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে সরকারী ভাবে প্রতিমাসে বা সপ্তাহের ছয়দিনই শতশত টাকার ঔষাধ ফ্রি প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে গভর্বতী মা কে এখান থেকে নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। গভর্বতী মা কে নিয়মিত ভাবে দুরগ্রাম থেকে জেলা বা উপজেলা সদরের হাসপাতালে এনে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে গরীব শ্রেণীর মানুষের পক্ষে। বলাযায় কমিউনিটি ক্লিনিকের অবিরাম স্বাস্থ্যসেবার কারনে তারা বাড়ীতে বসেই এ সেবা পেয়ে থাকে। এছাড়া এখানে নিয়মিত ভাবে সিএইচসিপি ও স্বাস্থ্য সহকারী কর্মীরা গভর্বতী মা, শিশু ও সাধারন রোগীদের  চিকিৎসা সহ শরীরের সকল অসুস্থতাকে দুর করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি হলো খোলপেটুয়া নদীর তীরে অবস্থিত আটুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর আটুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক। এই ক্লিনিকের মুল দ্বায়িত্বে আছেন,সিএইচসিপি মো. আক্তারুজ্জামান। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এখানে প্রচুর রোগী আসে। গত জুন মাসে রোগীর সংখ্যা ছিল  ৮৩০ জন। এ কমিউনিটি ক্লিনিকটি সপ্তাহের ছয়দিনই খোলা থাকে। তিনি বলেন, এখানে গভর্বতী মায়েদের আর শিশুদের কে যত্ন সহকারে পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া সাথে সাথে সাধারন রোগীদেরকেও গুরুপ্ত সহকারে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়ে থাকে। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে অনেক কষ্ট নিয়ে বলেন, এ ক্লিনিকের অবকাঠামো একেবারই ভেঙ্গে পড়েছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সব সময় আতংকের মধ্যে থেকে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হয় স্থানীয় মানুষের।

এছাড়া এ বিল্ডিংটির ভিতরে বাহিরের ছাল চামড়া উঠে যেয়ে ধসে ধসে পড়ছে। এ কারনে গভর্বতী মা বা শিশুদের জন্য বড় আতংকের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যেও সব সময় বিল্ডিংয়ের ছাদ ধসে পড়ার আতংক বিরাজ করে। কষ্ট হলে ছুটে আসে নিজেকে একটু সুস্থ রাখার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে। এখানে বসে নিজের শরীরের সমস্যা নিয়ে পরামর্শ করার জন্য কিন্ত ক্লিনিকে এসেই  শুরু হয় আতংক। ক্লিনিকের ভয়াবহ ভগ্নদশা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। গ্রামের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষেরা যখন সরকারের ডাকে কমিউনিটি ক্লিনিক মুখী তখনই এধরনের অজানা আতংক সত্যিকার অর্থে খুবই দুঃখজনক। এ ক্লিনিক থেকে উন্নত ও প্রয়োজনীয় প্রায়  ৩০ প্রকারের ঔষধ রোগীভেদে ফ্রি প্রদান করা হয়ে থাকে। এ দিকে সারা দেশে শুরু হয়েছে , কমিউনিটি ক্লিনিক এ্যাক্টিভেশন ক্যাম্পেইন ২০১৬। যার প্রধান স্লোগান হলো, ‘শেখ হাসিনার অবদান, কমিউনিটি ক্লিনিক বাচায় প্রান’। আর এ স্লোগান যখন দেশের গ্রামান্ঞলের ১৪ কোটি মানুষের মুখেমুখে তখনই গ্রাম বা পল্লীর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভগ্নদশা সাধারন দুরিদ্র পেশার মানুষেরা দেখতে চায়। সরকার প্রতি বছর বাজেট কর্মসূচী ঘোষনা করলেই দেখা যায় প্রায় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সর্বোচ্ছ বরাদ্ধ প্রদান করেন। অথচ দীর্ঘকাল ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের অবকাঠামোর কোন পরিবর্তন হয়নি। গ্রামের মানুষ এখন কমিউনিটি ক্লিনিক মুখী, সুতারং এর পরিবর্তনের কোন বিকল্প পথ নেই। এখানে আমুল পরিবর্তন, পরিবর্ধন আনতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোরকে ডিজিলাইশন করতে হবে। এখানে স্বাস্থ্যসেবার মান আরো বৃদ্ধি করার লক্ষে কম্পিউটার, স্বাস্থ্যসেবা পরিক্ষা মুলক সরঞ্জামাদী প্রদান করা সহ দ্বায়িত্বশীলদের সরকারী সুযোগ সুবিদা প্রদান করতে হবে । যেখানে দ্বায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কাজ বেশী, সেখানে দ্বায়িত্বশীলদের সরকারী সুযোগ সুবিদা প্রদান করার প্রয়োজনটা অনেকবেশী।

স্থানীয় সরকার, উপজেলা পরিষদ সহ স্বাস্থ্যখাত থেকে ও ছোট করে হলেও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর  পরিবর্তন আনা শুধু মনের ব্যাপার বলে আমি মনে করি। সুন্দরবন উপকুলীয় ও সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা থেকেই এর পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব বলে আমরা সাংবাদিক সমাজ মনে করি। কারন বর্তমানের সাংসদ সদস্য এস.এম জগলুল হায়দার একজন উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক নেতা হিসাবে এ  এলাকায় ইতিমধ্যে একাধিক পরিক্ষা দিয়েছেন। এনেছেন ব্যাপক উন্নয়নমুখী পরিবর্তন। এছাড়া তিনি একজন সুযোগ্য ডা. ও মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান। যিনি জন্ম থেকে স্স্বাস্থ্যসেবার সাথে পরিচিত। একারনে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তার রয়েছে নিজস্ব দুর্বলতা, আগ্রহ আর অধিকতর দুরদর্শী ভাবনা। শ্যামনগর বাসী এটা অকপটে বিশ্বাস আর শ্বিকার করেন। এদিকে তিনিই এ উপজেলার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাপতিও। এছাড়া তিনি সকল উন্নয়নমুখী সকল কাজে আন্তরিকতার সাথে পাশে পেয়েছেন – এ উপজেলার প্রসাশনের সর্বোচ্ছ কর্মকর্তা ইউএনও আবু সায়েদ মনজুর আলমকে। ইতিমধ্যে ব্যাপক উন্নয়নের একাধিক দৃশ্যমান অবকাঠামোর জন্ম দেয়ায়, শ্যামনগর বাসীর কাছে একজন স্বচ্ছ আর সৃজনশীল ইউএনও হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

এবিষয় উপজেলা স্বাথ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. খান হাবিবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয় টি উপজেলা, জেলা সহ স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভাগুলতে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। এছাড়া অবকাঠামোর পরিবর্তন আনার লক্ষে স্বাস্থ্য দপ্তরে ইতিমধ্যে একটি তালিকা প্রেরন করা হয়েছে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে এখন গ্রামের সাধারন মানুষেরা ব্যাপক ভাবে স্বাথ্যসেবা নিচ্ছেন, সে লক্ষেও স্বানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রসাশন, স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছেন, তিনি বলেন উপজেলা পরিষদের এডিবির মাধ্যে ইতিমধ্যে কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সংস্কার কাজ করা হয়েছে, এগুলোর তদারকির মুল দ্বায়িত্বে রয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ ,আগামী মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি গুরুপ্ত সহকারে উপস্থাপন করা হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা করার চেষ্ঠা করা হবে।এবিনিউজ

আপনার মতামত লিখুন

খুলনা,রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ