রবিবার,২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং,৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: ভোর ৫:১৬
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বরিশালের গৌরনদীতে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ এক যুবক কে আটক করেছে র‌্যাব ৮ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা লোপাট কারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্থ ২০ গ্রাম বাসীর সমাবেশ ঝিনাইগাতীতে ইউএনও রুবেল মাহমুদের প্রশংসনীয় উদ্দ্যোগ পটুয়াখালীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষন চেস্টা মামলা।। পার্বতীপুরে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতরন ৪৫০জন অসহায় রোগিকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান

অস্তিত্ব সংকটে বেরোবির অধীনে দমদমা বধ্যভূমি

9 months ago , বিভাগ : শিক্ষা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:   বিজয়ের ৪৬ বছরেও অরক্ষিত, অযতœ আর অবহেলায় পড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের দমদমা বধ্যভূমি। বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ ও বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেয়ার ৭ বছরেও কার্যত কোনো উদ্যোগ গ্রহন না করায় বিলীন আর দখল যজ্ঞে আজ অস্তিত্ব সংকটে দেশের অন্যতম এই বধ্যভূমি। এ পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ না করায় বেসরকারি একটি কোম্পানি আর স্থানীয় ভূমিখেকোদের থাবায় বিলীন হতে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ঐতিহাসিক গবেষণার এই স্থান। শুধুমাত্র ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ছাড়া সারা বছর অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ বধ্যভূমি। তবে বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের দমদমা ব্রিজের কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কারমাইকেল কলেজের ৪ শিক্ষক অধ্যাপক সুনীল বরণ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী, অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন রায় এবং অধ্যাপক কালাচাঁদ রায় এবং তাঁর সহধর্মিণী মঞ্জুশ্রী রায়কে রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাস থেকে ধরে এনে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই বেদনাবিধূর কাহিনীর রেশ কাটতে না কাটতেই ৭ জুন আবার এই স্থানে ঘটে আরেক লোমহর্ষক ঘটনা। ওই দিন রাতের স্তব্ধতাকে কাটিয়ে গভীর রাতে একে একে তিন ট্রাক বোঝাইকৃত শত শত সাধারণ মানুষকে এনে আবারো এই দমদমা নামক স্থানে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দীর্ঘদিন পর ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারমাইকেল কলেজ শিক্ষক পরিষদ মহাসড়কের পাশে একটি স্মৃতিফলক ও মূল স্থানে একটি ছোট স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন। সবশেষ ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তবে দায়িত্ব নেয়ার সাত বছরেও এটি সংরক্ষণে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বধ্যভূমির সীমা নির্ধারণপূর্বক কোনো সীমা প্রাচীরসহ স্থাপনা না থাকায় একটি বেসরকারি হাউজিং করপোরেশনের উদ্যোগে দুইদিকে টিনের সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়েছে। তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন। মূল মহাসড়ক হতে অনেকটা ঢাকা পড়েছে স্থানটি। ফলে বিঘিœত হচ্ছে বধ্যভূমির প্রকৃর্ত মর্মার্থ। অন্যদিকে, ঠিক বধ্যভূমির স্তম্ভের পাশ দিয়েই তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। ফলে ক্রমান্বয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে স্থানটির মূল ভিটেমাটি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বধ্যভূমির সংরক্ষণের জন্য জমিদানকারী পরিবার কথামত, বধ্যভূমির জন্য ছয় শতক জমি দেয়া হয়েছে। তবে যে সেখানে ছয় শতক জমির কোনো অস্তিত্ব নেই তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। অনেকটা দখল আর বিলীন হতে বসেছে ঐতিহাসিক এই স্থানটি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী তার আমলে বিভিন্ন সময়ে বধ্যভুমির সীমানা নির্ধারণে আইনি সহায়তা নেয়ার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করলে শেষ অবধি তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১৪ জুন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। তবে সীমানা নির্ধারণ কিংবা গবেষণার জন্য সংরক্ষণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি বধ্যভূমিটি সংরক্ষরণ এবং গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন খুব দ্রুত কার্যকারী উদ্যোগ গ্রহন করেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবিনিউজ’কে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত মহান এ বধ্যভূমির সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাইনবোর্ড লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়। সীমানা নিধারণ, সংরক্ষণের জন্য যাবতীয় উন্নয়নের জন্য একান্ত সচিব (উপাচার্যের পিএস) আমিনুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বধ্যভূমিটির ডিজাইনের জন্য স্থপতির সাহায্য নেয়া হচ্ছে।
সীমানা নিধারণের বিষয়ে উপাচার্য আরো বলেন, সীমানা নির্ধারণে সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির একটি বিষয় রয়েছে। তাই স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যাতে কোনো মনমালিন্য না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রেখেই সীমানা নির্ধারণের কাজ করতে হবে।

সূএ: এবিনিউজ

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ