মঙ্গলবার,২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:২৯
বাগেরহাটে ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার আম্পায়ারকে গালি দিয়ে সাকিবের শাস্তি ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার টু’তে টাইগার শ্রফ জলপাইয়ের গুণাগুণ সৈয়দপুরে তারেক রহমানের জন্মদিন পালিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় রিলিজ স্লিপের ভর্তির আবেদন ২২ নভেম্বর শুরু সব দায় পরিচালকের : এফ আই মানিক

অবৈধ শরণার্থী ক্যাম্প তৈরি করেছে প্রতারকরা রোহিঙ্গাদের এসব ক্যাম্পে জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

 মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নানা ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসায় নেমে পড়েছে স্থানীয় প্রতারক চক্র। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে শরণার্থী ক্যাম্প তৈরি করেছে প্রতারকরা। এ সব ক্যাম্পে জোর করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি ক্যাম্পে যেতে চাইলে নানারকম অমূলক ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অবৈধ ক্যাম্পে।

গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়ে গেলেও সরকারি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীর সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার। প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার অবৈধ ক্যাম্পে। ক্যাম্প তৈরি করার জন্য নির্বিচারে পাহাড় ও গাছ কাটার কারণে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অবৈধ ক্যাম্প পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গোপনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মূল কাজ হলো— খাদ্য ও কাজের লোভ দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের অবৈধ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া, এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা। এ ছাড়া শরণার্থীদের দেওয়ার নাম করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার নিকট হতে কৌশলে ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করে তা লোপাট করছে এ প্রতারকরা চক্র।
রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বকে পূঁজি করে আরো এক ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায়। অধিকাংশ রোহিঙ্গাই মিয়ানমার থেকে কোনোমতে নিজের জীবন নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। তবে কেউ কেউ আসার সময় তাদের শেষ সম্বল গবাদি পশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আসার পর নিজের প্রাণ নিয়ে আর কোনো সংশয় না থাকলেও পড়তে হচ্ছে নতুন ধরনের বিড়ম্বনায়। প্রতারক চক্রের হাতে নাম মাত্র মূল্যে নিজের শেষ সম্বল তুলে দিচ্ছে তারা। একেকটি গরু বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের মুরগি বিক্রয় হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও ঠকানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। ১ লাখ কিয়াতের (মিয়ানমারের মুদ্রা) বিনিময়ে বাংলাদেশের ৬ হাজার টাকার বেশি পাওয়ার কথা। কিন্তু রোহিঙ্গারা এর অর্ধেক দামও পাচ্ছে না।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের হয়রানির অভিযোগে গত ১৫ দিনে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকা থেকে ১২ জন প্রতারককে আটক করে র্যাব। সর্বশেষ গতকাল উখিয়ার থাইংখালীস্থ হাকিমপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৬ জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হলেও শরণার্থীদের নিয়ে প্রতারণামূলক ব্যবসা বন্ধ হয়নি বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে।
র‌্যাব  ৭ এর সিনিয়র এএসপি মিমতানুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, শরণার্থীদের নিয়ে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চলছে। বিশাল এলাকাজুড়ে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে প্রতারকদের ধরাটাও বেশ কঠিন কাজ। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা চম্পট দেয়। তিনি রোহিঙ্গাদের সরকারি ক্যাম্পে নিয়ে যেতে স্থানীয়দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন

কক্সবাজার,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ