বৃহস্পতিবার,১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,৬ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৯:০২
শ্রীমঙ্গলে দু’দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্পে আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ ‘রপ্তানি আয় ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে’ কঠিন সময়ে অধিনায়কত্ব পেয়েও চাপে নেই তামিম জিয়ার মাজারে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা লালপুরে কৃতী শিার্থীদের সংবর্ধনা পাঁচবিবিতে এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠিত

অধরাই রইল শততম ওয়ানডে জয়

8মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: মঞ্চটা প্রস্তুতই ছিল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার জিতে গেলেই ইতিহাস হয়ে যেত। কিন্তু শততম ওয়ানডে জয়ের হাতছানির ম্যাচে বাংলাদেশকে রুখে দিল আফগানিস্তান। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে দুই উইকেটে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে হারিয়ে দিয়ে সমতায় ফিরল সফরকারীরা। সিরিজ জিততে হলে আগামী শনিবার জয়ের কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিকদের।

২০৮ রানে অল আউট হওয়ার পর স্লো উইকেটে স্পিনারদের নিয়ে মাশরাফিই যা একটু প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিলেন। সাকিব আল হাসানের তিনটি ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের এক উইকেটে ৬৪ রানের মধ্যেই ৪টি উইকেট হারানো আফগানরা বিপাকেই পড়েছিল।

তবে তাদেরকে সেই বিপদ থেকে বের করে নিয়ে আসেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবী ও আজগর স্ট্যানিকজাই। পঞ্চম উইকেট জুটিতে বর্তমান অধিনায়ক ও সাবেক অধিনায়ক মিলে যোগ করেন ১০৭ রান।

হাফ সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থাকতে নবীকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে মাশরাফি সাজঘরে ফেরালেও ওয়ানডেতে নিজের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে যান স্ট্যানিকজাই। ৫৭ রানে তিনি আউট হয়ে যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে।

পরপর ২ সেট ব্যাটসম্যান আউট হওয়ায় হঠাৎ করেই যেন ম্যাচের রং বদলে যায়। পরে ৪৫তম ওভারে রশিদ খানকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন সাকিব। শেষ ২ ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১ রান।

তখনও ম্যাচটায় দু’দলই ছিল। মোসাদ্দেকের বলে মিরওয়ারিশ আশরাফের এক ছক্কায় সেই শঙ্কা মুছে যায়। ম্যাচ শেষ ওভারে গড়ালেও দুই বল বাকি থাকতেই দুই উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।

টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ ছিল না। প্রথম উইকেট জুটিতে দুই ওপেনার মিলে যোগ করেছিলেন ৪৫ রান। ২ ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার প্রত্যেকের ব্যাট থেকে আসে ২০টি করে রান।

ইনিংসে এরপর বলার মতো জুটি হয় তৃতীয় উইকেটে। দুই ভায়রা ভাই মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে যোগ করেন ৬১ রান। মুশফিকুর রহিম ৩৮ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৫ রান করেন।

এর পরেই নামে ধস। পরপর তিন উইকেট। প্রথমে সাকিব আল হাসান, এরপর সাব্বির রহমান রুম্মান– পরপর ২ ওভারে বাংলাদেশের এই ২ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলেন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে। এরপরের ওভারেই সাজঘরে ফিরলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

৩১, ৩২ আর ৩৩তম ওভারের টানা তিন এই উইকেট পতনই আফগানিস্তানের বোলিংয়ের টার্নিং পয়েন্ট। শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। এর মধ্যে সাকিবের উইকেট নিয়েও যথেষ্ট জলঘোলা হলো। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেলো বলটা প্যাডে লাগার আগে ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছিল। সেটা না হলে বাংলাদেশের রানের খাতাটা নিঃসন্দেহে আরও বড় হতে পারত।

এই মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জুলাই মাসে ২০০’র নিচে (১৯০) অল আউট হয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এবার স্বাগতিকদের সেই লজ্জায় ডোবানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল স্বাগতিক আফগানিস্তান।

কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের সেই বিপদ আসতে দেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অভিষেক ম্যাচেই তিনি ২ ছক্কা আর ৪টি চারের সৌজন্যে ৪৫ বলে ৪৫ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেন। শেষ উইকেট জুটিতে রুবেল হোসেনের (১০) মিলে যোগ করেন ৪৩ রান। আর এতেই ৪৯.২ ওভারে অল আউট হওয়ার আগে ২০৮ রান করতে পারে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

আফগানদের মধ্যে রশিদ খান নেন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট। এর বাদে মোহাম্মদ নবী ও মিরওয়ারিশ আশরাফ দুইটি করে উইকেট পান।

পরে বল হাতে নিজের প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন সৈকত। বাংলাদেশের প্রথম ও ইতিহাসের ২৪তম বোলার হিসেবে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়া এই অফ স্পিনারই দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ৪৫ রানের পর ১০ ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে দুটি উইকেট পান তিনি।

তারপরও এমন পরাজয়ের দিনটা নিঃসন্দেহে ভুলেই যেতে চাইবেন তিনি, ভুলে যেতে চাইবে বাংলাদেশ ক্রিকেট।

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


%d bloggers like this: