শনিবার,২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:৫৬
‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ শুরু আজ দেশজুড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা পার্বতীপুর প্রগতি সংঘের নির্বাচন সম্পন্ন — সভাপতি আনোয়ারুল – সম্পাদক আমজাদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে চাই: রুবেল কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: সাজার মেয়াদ কমিয়ে ও জরিমানা বাড়িয়ে ‘মানবদেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন-২০১৭’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আশরাফ শামীম বলেন, ‘এ আইনটি ১৯৯৯ সালের । আইনে অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ বলতে কিডনি, হৃদপিণ্ড, চোখ, ফুসফুস, টিস্যু, যকৃত, অন্ত্র, অস্থি ও অস্থিমজ্জাকে বোঝাবে।  একজন ব্যক্তি নিকটাত্মীয় একজনকে অঙ্গ দান করতে পারবেন। নিকটাত্মীয় বলতে, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী, রক্তের সম্পর্কিত চাচা-চাচি, মামা-মামি, নাতি-নাতনি, মাতাতো, খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো ভাই-বোনদের বোঝাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে হাসপাতাল এ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে, সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। তবে সরকারি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ইউনিট যদি এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করে তবে অনুমতি লাগবে না। এটা আইনে পরিণত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করতে হবে।’
সচিব বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তির জীবনধারণে কোনও ধরনের সমস্যা না হলে তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। তবে চোখ ও বোনমেরুর ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় হওয়ার দরকার নেই। এক্ষেত্রে যেকেউ স্বেচ্ছায় অঙ্গ দান করতে পারবেন। মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনানুগ উত্তরাধিকারীর লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে অঙ্গ নেওয়া যাবে। মৃত ব্যক্তির ঘোষণার জন্য একটি কমিটি থাকবে, কমিটিতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের একজন মেডিসিন, একজন নিউরোলজিস্ট, একজন অ্যানেসথেসিয়া বিষয়ক অধ্যাপক থাকবেন। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দাতা মৃত হলে তার বয়স দুই বছরের বেশি ও ৬৫ বছরের কম হতে হবে। তবে চোখ ও অস্থিমজ্জার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। দাতা জীবিত হলে ১৮ বছরেরে কম এবং ৬৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। গ্রহীতার বয়স দুই বছরের কম ও ৭০ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। তবে ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী রোগীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে কর্নিয়ার ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে না। এগুলো দেখভালের জন্য সব হাসপাতালে একটি করে মিডিক্যাল বোর্ড থাকবে। হাসপাতালের সার্জারি  ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের একজন করে অধ্যাপক এবং হাসপাতালের পরিচালক বা একজন চিকিৎসক বোর্ডের সদস্য হবেন।’
এ ছাড়া ১১ সদস্যের ক্যাটবেরিক জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির চেয়ারম্যান হবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্বদ্যিালয়ের  উপাচার্য এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
নিকটাত্মীয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিলে, ভুল তথ্য দিলে এবং ভয়ভীতি দেখালে দুই বছরের কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। এছাড়া এ আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করতে বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে ৩ বছরের জেল, ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। তবে কোনো চিকিৎসক অপরাধী প্রমাণিত হলে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে। আগে এ আইন লঙ্ঘনকারীদের সর্বোচ্চ ৭  বছর ও সর্বনিম্ন ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ জরিমানার বিধান ছিল।
আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ